টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভয়াল ২৯ এপ্রিল স্মরণ: শোকর‌্যালী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

User comments

User comments

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে কক্সবাজারে শোক র‌্যালী, মিলাদ মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। নিহতদের স্মরণে বুধবার বিকালে বদর মোকাম জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে স্মজনহারা পরিবারের লোকজন। পরে শোকর‌্যালী বের করে কক্সবাজারস্থ কুতুবদিয়া সমিতি।

কক্সবাজার সদর থানা রাস্তার মাথা থেকে র‌্যালীটি বের হয়ে প্রধান সড়ক ঘুরে ইভান প্লাজাস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সমিতির সভাপতি এড. ফিরোজ আহমদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ছলিম উল্লাহ চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী তারেক ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহাদত হোছাইন।
সাধারণ সম্পাদক এম.এ মোনাফ কুতুবীর পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন সমিতির পাঠাগার সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বাবু, সদস্য মোঃ ফারুক ও এড আহসান উল্লাহ। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন অর্থ সম্পাদক মাওলানা ফজলুল কাদের। সভায় ২৯ এপ্রিলকে জাতীয় দিবস ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন- সমিতির সহ-সভাপতি খাইরুল আনাম কোম্পানী, উপদেষ্টা এড. মো. আব্দুল বারি, সাংগঠনিক সম্পাদক এম.কে এইচ শামীম, সদস্য মু. আসাদুজ্জামান আসাদ, মো. শফিউল আলম, জয়নাল আবেদীন জানু, শেখ শহীদুল ইসলাম বাবুল, ক্রীড়া সম্পাদক রিদুয়ান মোস্তফা, রেজাউল করিম, আমানত শাহ আমান, দেলাওয়ার হোসেন, ছৈয়দ শাহ মোস্তফা, আনন্দ কান্তি শীল, মনসুর আলম, বোরহান উদ্দিন, মু.করিম, মু. রফিকুল্লাহ, মিজানুর রহমান, মু.মফিজ প্রমুখ।
একই দিন দুপুরে শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় শোক র‌্যালী ও আলোচনা সভা করেছে ভয়াল ২৯ এপ্রিল স্মৃতি পরিষদ। নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত র‌্যালী কুতুবদিয়াপাড়া-সমিতিপাড়া ঘুরে কুতুববাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌরসভার ১ নং কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আজাদ। তিনি বলেন, ওই দিনের বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। স্মৃতির কথা মনে পড়লে অশ্রু ধরে রাখা যায়না। সেদিনের ভয়াল থাবায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়। দুই যুগ পরেও তাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়নি। ভবঘুরে জীবন কাটাচ্ছে স্বজনহারা অনেক বনি আদম। তিনি আরো বলেন, সরকার আসে আর যায়। ভিটেমাটিহারা দ্বীপাঞ্চলের মানুষগুলোর স্থায়ী সমাধান হয়নি। অথচ রোহিঙ্গাদের জন্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা আছে। দ্বীপের মানুষ সর্বদা উপেক্ষিত।
আবু তাহের কুতুবীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুতুবদিয়াপাড়া সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল বশর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর উদ্দিন খান, ছাবের আহমদ, আ.লীগ নেতা আ.ক.ম আহমদ উল্লাহ, আব্দুর রহিম, সরওয়ার আলম বুলবুল, শ্রমিক নেতা আতাউর রহমান কায়সার, দারুল কুতুব একাডেমীর পরিচালক শহিদুল্লাহ প্রমুখ। স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুল আজিজ রুবেল এর পরিচালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, বশির আহমদ, ইউনুছ সওদাগর, মু. ফোরকান, লুৎফুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নাসের উদ্দিন কোম্পানী, দেলোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান, নেজাম উদ্দিন, শাহ আলম, মো. মামুন, জিয়াবুল হক, যুবদল নেতা আবুল হাশেম, ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
এ দিকে ভয়াল ২৯ এপ্রিল স্মরণে সকালে কক্সবাজার শহরের সাগরপাড় জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্বজনরা। এরপর সকাল ১১টায় শহরের হলিডে মোড় থেকে একটি শোক র‌্যালী বের করে কক্সবাজারস্থ কুতুবদিয়া সমিতি ও কুতুবদিয়া ছাত্র পরিষদ। র‌্যালীটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে শোক সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় কক্সবাজারস্থ কুতুবদিয়া সমিতির সভাপতি (একাংশ) শহিদ উদ্দিন ছোটন, কুতুবদিয়া ছাত্র পরিষদের সভাপতি হুমায়ুন সিকদারসহ শোকাহত পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার বিধ্বস্থ বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২৯ এপ্রিল ‘ম্যারি এন’ নামক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লন্ড ভন্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পূরো উপকূল। সেদিন মারা গিয়েছিল দুই লক্ষাধিক মানুষ। লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছিল। ৫০ লাখ মানুষ হয়েছিল গৃহহারা। সেই সঙ্গে মারা গিয়েছিল ২০ লাখ গবাদি পশু। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাত। ধ্বংসলীলা দেখে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক। বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় নিহতের সংখ্যা পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল রাতে বাংলাদেশে-র দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৫০ কিমি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত