টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিএনপি এখন কী করবে?

bnp-flagচট্টগ্রাম, ২৯ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। নানা অভিযোগে শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জন করলেও এটাকে ইস্যূ করে এখনই আন্দোলনে যেতে চাইছে না দলটি।

তাদের ভাবনায় রয়েছে, নির্বাচনে দৃশ্যমান অনিয়মকে পুঁজি করে ধীরগতিতে আন্দোলনে সক্রিয় হওয়া। এক্ষেত্রে দলটি নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে চায়, আরও কিছু দিন দেখতে চায়।

তবে শিগগিরই পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বিএনপি ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়া বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।সেক্ষেত্রে প্রতিবাদ হিসেবে আপাতত বিক্ষোভ জাতীয় কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে চায় দলটি।বেশিরভাই হরতালের পক্ষে নয়।হরতাল-অবরোধ নিয়েও দলীয় অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও কারচুপির অভিযোগ এনে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।

ভোট বর্জনের ঘোষণার পর থেকেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতারা এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেন। অনেকে আবার লাভ ক্ষতির হিসেব কষতে শুরু করেছেন।

বিএনপির একটি অংশ আবার নির্বাচনে দলের নেতাদের চেয়ে পেশাজীবীদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়ারও সমালোচনা করছেন।

তবে দলটির সাধারণ নেতাকর্মীসহ অনেকেরই প্রশ্ন বিএনপি এখন কি করবে। তারা কি আবারো আন্দোলনে ফিরে যাবে? নাকি আবারো সংগঠন গোছানোর কাজে মন দিবে।

দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করেন নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল।যুক্তি হিসাবে তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তার পক্ষে যুক্তি আরো জোরালো হলো।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় নির্বাচন হলেও সিটি নির্বাচনে কমবেশি কারচুপি হবে এমনটা বিএনপি নেতারা ধরেই নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতটা হস্তক্ষেপ করবে সেটা তাদের ধারণায়ও ছিল না।

সূত্রে আরো জানা যায়, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া, কেন্দ্রে ঢুকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও অনেক জায়গায় এজেন্ট উপস্থিত না হওয়ায় শীর্ষ নেতারা কিছুটা হতাশ। সে কারণে আবারো যে সাংগঠনিক ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে তা কাটাতে কি পদক্ষেপ নেয়া যায় তা নিয়েও কাজ করবে বিএনপি।

ঢাকাতে বিএনপির প্রার্থীরা আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের ব্যানারে নির্বাচন করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি ভোট বর্জন করলেও সংগঠনটি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বুধবার বিকালে তারা সংবাদ সম্মেলন করবে।

জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলন শেষে রাতে সংগঠনের নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারেন। পরবর্তী করণীয় নিয়ে তাদেরও মতামত নিতে পারেন বিএনপি প্রধান।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, অনেকে এই মুহূর্তে আবারো কঠোর কর্মসূচির পক্ষে নয়। কারণ ওই ধরণের কর্মসূচি দিলে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে যে একধরণের ক্ষোভ আছে তারা তা ভুলে যাবে। সেক্ষেত্রে আবারো বিএনপিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।তাছাড়া বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিলেই যে কর্মীরা তা পালন করার জন্য ছুটে আসবে তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়।

নির্বাচনী প্রচারে নেমে খালেদা জিয়া নগরবাসীকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহবান জানানোর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য বলেছিলেন।কিন্তু হয়েছে তার উল্টো।

বিএনপির বেশিরভাগ কেন্দ্রে এজেন্টই ছিল না।অনেক জায়গা থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এটাও সত্য।তবে এক্ষেত্রে তাদের পক্ষে কথা বলার জন্যও কোনো লোক পাওয়া যায়নি।দলীয় সমর্থকদের ভোটার স্লিপ দেয়া তো দূরের কথা।

বাস্তবতা হচ্ছে-নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের কোনো লোকজনকে দেখা যায়নি।নির্বাচনী কেন্দ্রে বিএনপির এই দুর্দশা দেখে অনেকেই একে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি সমর্থকদের উপস্থিতি না থাকায় দৃশ্যত ভোট একতরফা হয়ে গেছে।

এদিকে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দলের হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাসহ সার্বিক বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরার চিন্তা করছে বিএনপি।

সূত্র মতে, কী পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হয়েছে কূটনীতিকদের কাছে তা ব্যাখ্যা করে বলা হবে। এজন্য নির্বাচন বর্জনের পর থেকেই দলের বেশ কয়েকজন নেতা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের দলের কূটনৈতিক কোরের কয়েকজন নেতা এ নিয়ে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আ স ম হান্নান শাহ  বলেন, নির্বাচনে যাওয়ায় বিএনপির লাভ হয়েছে। ১. সরকার যে গণবিচ্ছিন্ন এটা এবার প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জনমতের তোয়াক্কা না করে সরকার কীভাবে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্বাচন করতে পারে জনগণ এটাও দেখেছে।”

তিনি আরো বলেন, “পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ শিগগিরই জানানো হবে।”-ঢাকাটাইমস

মতামত