টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মনজুর অবসর: দলে প্রভাব পড়বে না, সক্রিয় ছিল না-খসরু

ctgচট্টগ্রাম, ২৮ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):  বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকেও অবসরের ঘোষণা দলে কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করেনা নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জাবাবে এই মন্তব্য করেন খসরু।

চট্টগ্রামের দলীয় বিষয় নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের হয়ে সবসময় যোগাযোগ করেন নজরুল ইসলাম খানই। এসময় মনজুরের দলত্যাগের বিষয়টি নিয়ে খসরুর মধ্যেও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বলেও কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সরকার সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মনজুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে তার পাশেই ছিলেন। এরপর তিনি নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসায় চলে আসেন।

মনজুর নির্বাচন বর্জনের খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে ছুটে যান। এসময় এই প্রতিবেদকও সেখানে উপস্থিত হয়। নির্বাচন বর্জন নিয়ে জানতে চাওয়া হয় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরুর কাছে। প্রথমে তিনি খুবই ক্লান্ত দাবি করে এনিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি না হলেও পরক্ষণে ডেকে নিয়ে পাশে বসিয়ে কথা বলেন।

খসরু  বলেন, ‘কি বলবো। খুব ক্লান্ত। আমরা তো একবার ব্রিফিং করেছি। আচ্ছা তুমি যেহেতু এসেছো। তাহলে বলি। লিখবা নাকি রেকর্ডিং করবা?’ এরপর আমীর খসরু বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ইলেকশন কমিশন, দলীয় সন্ত্রাসীরা একীভূত হয়ে ভোট ডাকাতি করেছে। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নেই। এ সরকার যতদিন থাকবে ততদিন মানুষ ভোট দিতে পারবেনা। তারা মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বহিরাগত হাজারো নেতাকর্মী এনে গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম শহরে মহড়া দিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে ভোট দিয়েছে। এসব আপনারা নিজ চোখে দেখেছেন।’

এরই মাঝে বাসার ভেতর থেকে একজন এসে বললেন নজরুল সাহেব (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান) কেন্দ্র থেকে ফোন করে তাকে চেয়েছেন। বাংলামেইল প্রতিবেদকের সঙ্গে কথার ফাঁকে তিনি ফিরতি কলব্যাক করেন নজরুল ইসলাম খানের মোবাইল ফোনে।

এসময় আমীর খসরু বলেন, ‘হ্যালো নজরুল ভাই। কেমন আছেন? কী আর বলবো? এখানেতো নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।’

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কিছুক্ষণ কথা শুনার পর খসরু বলেন, ‘তিনি তো শুধু মেয়র নির্বাচন বর্জন করেননি। রাজনীতি থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এসময় তাকে আমি বারবার বলানোর চেষ্টা করেছি, এই ধরণের নোংরা রাজনীতি আমাদের পক্ষে করা সম্ভব না। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই এটা না বলে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দেন।’

ফোনের অপরপ্রান্তের কথা শোনার পর ফিরতি উত্তরে খসরু বলেন, ‘না না আমরা কেন তাকে অবসরে যাওয়ার কথা বলবো। তিনি নিজ সিদ্ধান্তেই হঠাৎ করে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের করার কি আছে।’

ফোনের অপর প্রান্তের কথা শুনে তিনি আবার বলেন, ‘না দলে তার অনুপস্থিতিতে কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয়না। দলের মধ্যে সক্রিয় ছিল না। আমার মনে হয় না তাকে বুঝালেও তিনি বুঝতো। আমাদের সাথে এই ব্যাপারে তো কোনো পরামর্শই নেননি। তিনি নাকি যা পাওয়ার তা পেয়ে গেছেন। আমি তো বুঝতে পারছি না তিনি কী পেয়েছেন?’

একটু থেমে খসরু বলেন, ‘আচ্ছা ভাই ঠিক আছে। তাহলে খবর জানায়েন। কী হয় দেখার অপেক্ষায় আছি।’

সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে সকাল থেকে বারবার কেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির অভিযোগ এনে প্রতিকার না পেয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন মনজুর আলম। একই সঙ্গে রাজনীতি থেকেও অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর দেওয়ানহাটে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মনজুর এ ঘোষণা দেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনকারী মনজুর ২০১০ সালের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনজুর আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামের ৮০ শতাংশ কেন্দ্র আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা দখল করে নিয়েছে। এখানে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। ভোট কেন্দ্রে আমাদের কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এই নির্বাচন বর্জন করছি।’

আওয়ামী লীগ পরিবার থেকে উঠে আসা শিল্পপতি মনজুর হঠাৎ করেই রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমি আর রাজনীতি করবো না। তবে সমাজ সেবা চালিয়ে যাবো। যারা এতদিন আমার পাশে ছিলেন তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত