টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৬০ হাজার মামলার জট কক্সবাজার জেলা জজ আদলাতে

User comments

User comments

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
কক্সবাজার জেলা জজ আদলাতে বিচারক সংকটে প্রায় ষাটহাজার মামলা আটকা পড়েছে। এতে একদিকে যেমন মানুষ হয়রানি হচ্ছে অন্যদিকে অর্থনৈকিভাবে ক্ষতির সম্মুখিন বিচারপ্রার্থীরা। এ জট নিরসনে আইনজীবী ও বিচারকদের আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দেয়া খুবই জরুরী বলে জানান জেলা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেন, বিচারক সংকটের কারণে অনেক বিচারপ্রার্থী সঠিক সময়ে বিচার পাচ্ছেনা। নিষ্পত্তি হচ্ছেনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা। আদালতে এসে শুধু হাজিরাতেই সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে আরো বেশী আন্তরিক হতে হবে।
২৭ এপ্রিল সোমবার বিকেলে জেলা জজের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই তথ্য জানান।
এ সময় জেলা জজ বলেন, কক্সবাজারের ৭শত আইনজীবী দিনে একটি করে মামলা ফাইল করলেও প্রতি মাসে মামলার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এসব মামলার জট কমানোর জন্য তিনি বাদী বিবাদীর মাঝে অপোষ রফাই উত্তম পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এলক্ষ্যে তিনি আইনজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে চলেছেন। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সকলের সহায়তা চেয়েছেন।
জেলা জজ সাংবাদিকদের জানান, সারা দেশে ত্রিশ লাখ মামলা থাকলেও কক্সবাজার জেলায় আছে ৬০ হাজার মামলা। এর মধ্যে গত মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজারের আদালতে ফৌজদারী মামলার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭১৭, দেওয়ানী মামলার সংখ্যা হচ্ছে ২০ হাজার ২৬১ এবং নারী ও শিশু দমন আইনে পাঁচ হাজার ৬৭২ টি মামলা রয়েছে। অথচ অনেক জেলা আছে যেখানে ৮শতের উপরে মামলা নাই।
পার্শ্ববর্তি বান্দরবান জেলায় মামলা সংখ্যা দুই হাজার বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ওসব জেলায় বিচারকের সংখ্যা কক্সবাজারের চেয়েও বেশী। মামলার এই জটের কারণে কক্সবাজারের জনসাধারণের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। মানুষের সহজমুক্তির জন্য তিনি ‘আপোষেই শান্তি’ মন্তব্য করে মামলার জট শেষ করতে বাদি বিবাদীর মধ্যে আপোষ ফর্মুলাই উত্তম ফর্মুলা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাদি বিবাদী থেকে ফি নিলে আপনারা ইহকালে স্বস্থি পাবেন। আর মামলার আপোষ করে দিলে পরকালে স্বস্থি পাবেন। তাই মামলার আপোষ করে দিয়ে নিজেরাও স্বস্থি বোধ করুর এবং বছরের পর বছর ঘুরাঘুরি থেকে বাদি বিবাদীদেরকেও স্বস্থি দিন। এভাবে মামলার সংখ্যা কমিয়ে এনে দ্রুত বিচার পাওয়া নিশ্চিত কারাার জন্যও তিনি আহবান জানান।
মামলার সংখ্যা বাড়ার ব্যাপারে এবং নিরীহ মানুষজনের হয়রানীর ব্যাপারে জেলা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সমাজের কিছু টাউট শ্রেণীর মানুষ এবং কিছু কিছু পুলিশও এব্যাপারে দায়ী। তবে মামলার সংখ্যা কমানো, নিরীহ লোকজন যেন হয়রানীর শিকার না হয় এব্যাপারে বিচারকদের পাশপাশি আইনজীবীদের অনেক ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, আইনের ত্রুটির কথা না বলেও দেশে প্রচলিত যে আইন আছে তা দিয়েও এই সুযোগ গ্রহণ করা যায়। তিনি বলেন দ্রুত বিচার পাওয়া একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আপোষ নিষ্পত্তিতে বাদি বিবাদী দু’ পক্ষই হাসতে পারে। কিন্তু ট্রায়ালে এক পক্ষ হাসতে পারলেও কাঁদতে হয় অপর পক্ষকে। কক্সবাজার জেলায় বিচারক সংকট নিরসনে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন- যুগ্ম জেলা জজ মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. গোলাম ফারুক খান কায়সারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
যুগ্ম-জেলা জজ মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, লিগ্যাল এইড কমিটিতে কক্সবাজারে মামলার সংখ্যা ৯০৮টি। জেলা জজ আরো জানান, আমেরিকার মত দেশে একটি মামলার জন্য তিনটি কোর্ট আছে। আমেরিকা-বৃটেনের মত দেশে ৯৫ভাগ মামলা অপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় বলেও তিনি জানান। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খান কায়সার কক্সবাজারের বিশাল মামলার জট নিরসনে কমপক্ষে  একজন অতিরি জেলা জজ ও ৫জ মেজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান।

মতামত