টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চসিক নির্বাচন: ১৬০ বছরের পুরনো সমস্যাই ‘প্রধান ইস্যু’

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম, ২৭ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  মাদক থেকে শুরু করে সন্ত্রাস। যানজট থেকে শুরু করে ফুটপাত ও জমি দখল।  সমস্যার কমতি নেই চট্টগ্রামবাসীর। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে প্রধান হয়ে উঠেছে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা।

আর তাই মঙ্গলবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করার ‘কারিগরকেই’ মেয়র হিসেবে বেছে নেবেন নগরীবাসী, এমন কথা বলছেন অনেকে।

অবশ্য ভিন্নমতও মিলেছে।

গত নির্বাচনে (২০১০) এম মনজুর আলম এই ইস্যুতেই মাঠ গরম করেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এবার তার বিরুদ্ধে পুরনো সেই ইস্যুতেই ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির।

গত সিটি নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত মেয়র এম মনজুর আলম জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট টেনেছিলেন। পাঁচ বছর পরে সেই ভোটারদের মুখোমুখি হতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৮০ ভাগই পূরণ করতে পেরেছেন।’

বিপরীতে আ জ ম নাছির বলছেন, ‘এম মনজুর তার প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

লাভলেইন এলাকার ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, বিগত পাঁচ বছরে জলাবদ্ধতা সমস্যায় বেশ ভুগেছে নগরবাসী।

তিনি বলেন, একটু বৃষ্টিতেই নগর তলিয়ে যায় হাঁটুপানিতে। বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়ে ময়লা পানি।

একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী আবছার উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা ছাড়াও এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ে শঙ্কিত তারা।

জলাবদ্ধতা সমস্যা, কাজ চলছে দেড়শ’ বছর ধরে : দেড়শ’ বছরেরও বেশী আগে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি গঠন হয়।

মিউনিসিপ্যালিটি হওয়ার ৮ বছর আগেই শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে কাজ শুরু হয়েছিল। ‘কমিটি ফর দ্য স্যানিটারি ইমপ্রুভমেন্ট অব দ্য টাউন’ নামের একটি কমিটি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৮৫৬ সালে কাজ শুরু করেছিল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই কমিটির প্রথম মিটিংয়ের প্রধান এজেন্ডা ছিল জলাবদ্ধতা দূর করার উপায় বের করা।

১৬০ বছর পর ২০১৫ সালে এই নগরীর বাসিন্দারা যখন পঞ্চমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, তখনও প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি।

চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি গঠন : স্বায়ত্তশাসিত নগর হিসেবে চট্টগ্রামের বয়স ঢাকার চেয়েও এক বছর বেশী। ১৮৬৩ সালের ২২ জুন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি গঠন হয়। মাত্র ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকার পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে যাত্রা শুরু। তৎকালীন ব্রিটিশ আমলা জে ডি অয়ার্ড চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন খান বাহদুর আবদুস সাত্তার।

খান বাহাদুর আবদুর সাত্তার সবচেয়ে বেশী সময় (৩০ বছর) চট্টগ্রাম শাসন করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার সময়কে নগরীর শিক্ষা ও প্রশাসনিক উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিউনিসিপ্যালিটি থেকে পৌরসভা : ১৯৭৭ সালের ২৭ জুন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটিকে পৌরসভা হিসেবে নামকরণ করা হয়। ফজল করিম ছিলেন নবগঠিত পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পৌরসভাকে পৌর করপোরেশন নামকরণ করা হয়।

পৌর করপোরেশন থেকে সিটি করপোরশন : ১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম পৌর করপোরেশনকে সিটি করপোরশন নামকরণ করা হয়। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নবগঠিত সিটি করপোরেশনে প্রথম প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তার পরে মেয়র হিসেবে নিয়োগ পান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। দায়িত্ব পালন করেন প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোট হওয়ার আগ পর্যন্ত।

এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। মহিউদ্দিন চৌধুরী পর পর তিনবার চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হন। চতুর্থবার (২০১০) এম মনজুর আলমের কাছে বিশাল ব্যবধানে হেরে যান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত