টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

খেলার মাঠে কতকিছুই হবে, আ জ ম নাছির

nচট্টগ্রাম, ২৬ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘খেলার মাঠে কতকিছুই হবে। আমি মাঠেই খেলতে চাই’

রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পোলিং এজেন্ট থাকতে পারছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একটি বড় দলের সমর্থনে নির্বাচন করছি। তিনিও (মনজুর) তো আরেকটি বড় দলের হয়ে নির্বাচন করছেন। তার দলের এত নেতাকর্মী তাহলে কোথায় গেল? পোলিং এজেন্ট দিতে না পারার তাদের এ ব্যর্থতা আমি কেন বহন করবো।’

নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমের সমর্থকদের উপর হামলা করছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে নাছির বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি সমর্থিত একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন করছে। তাদের দলের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা আমাদের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে তারা। গতবার এসব করে তিনি (মনজুর) জিতেছেন। কিন্তু ভোটাররা এবার মনজুরকে চিনে গেছে।’

নাছির বলেন, ‘খেলার মাঠে কতকিছুই হবে। আমি মাঠেই খেলতে চাই’।

সংবাদ সম্মেলনে আ জ ম নাছির বলেন, ‘২৮ এপ্রিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচনে ১৮ লক্ষ ভোটার ৬০ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। এ এক কঠিন পরীক্ষা। আমি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চাই। আন্তরিকভাবে প্রতিটি ভোটারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সময় স্বল্পতার কারণে সবার কাছে যেতে পারিনি। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রতি ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। নগরীর উন্নয়নে আমার লক্ষ্য আমি মিডিয়ার মধ্যমে ও সরাসরি ভোটারদের কাছে গিয়ে জানিয়েছি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। প্রচারণার সময় আমি তার ফলাফলও পেয়েছি। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষদের উচ্ছ্বাস দেখেছি।’

ভোটারদের কাছে সুচিন্তিত রায় প্রত্যাশা করে আ জ ম নাছির বলেন, ‘২০১০ সালে দেয়া তার (মনজুর) প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা আপনারা জানেন। জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এখন আপনারই দেখছেন বর্তমান অবস্থা।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মনজুর আলম ঘোষণা দিয়েছিলেন যে নির্বাচিত হলে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটির পরামর্শ মেনে তিনি কাজ করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কথা দিয়ে কথা রাখেননি। এর রহস্যজনক একটা কারণ থাকতে পারে।’

Ctg ajm nasir 4ভোটারদের উদ্দেশ্যে আ জ ম নাছির বলেন, ‘দয়া করে আমাকে একটি বার সুযোগ দিন। আমি চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা। চট্টগ্রামের জন্য আমরা দরদ আছে, ভালোবাসা আছে। আমি কথা দিচ্ছি নির্বাচিত হলে নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডের কোন না কোন ওয়ার্ডে আমি প্রতিদিন যাব। এসব এলাকার সমস্যা স্বচক্ষে দেখে ব্যবস্থা নেব। এসব এলাকার মুরুব্বি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও পেশাজীবিসহ দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে আমি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবো। এসব বাস্তবায়নে আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

নির্বাচিত হলে কোন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করবেন না জানিয়ে নাছির বলেন, ‘আমি আগে ক্রিকেট অঙ্গনের নানা দায়িত্ব পালন করেছি। সেখানে পাওয়া বিভিন্ন সুবিধা আমি গ্রহণ করিনি। নির্বাচিত হলে মেয়রের কোন সুযোগ সুবিধা আমি নেব না।’

নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী গড়ার উদ্যোগ নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলাদিনের চেরাগের মতো দিনে দিনে জলাবদ্ধতা মুক্ত করে ফেলবো এমনটি নয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাছির বলেন, ‘সবাই এক মঞ্চে কাজ করবে এমন কোন কথা নেই। আওয়ামী লীগের মত একটি দলে আরো অনেক কাজ আছে। একেক জন একেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আজকেও মহিউদ্দিন ভাইকে নিয়ে একটি দলীয় সভা আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে মেরে খালেদা জিয়া ভোট চাইতে রাস্তায় নেমেছেন। মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর হামলা করছে। হামলার নামে নাটক করে তিনি সহানুভূতি লাভের চেষ্টা করছেন। জনগণ এত বোকা নয়।’

নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান ইসহাক মিয়া বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য খালেদা নাটক করছেন। এই নাটকের সীমা ২৮ এপ্রিল। ঘুনে ধরা বাঁশে কাজ হবে না, নতুন বাঁশের দরকার এখন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান ইসহাক মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংসদ নজিবুল হক মাইজভান্ডারী, সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী, সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাংসদ আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভী, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চেীধুরী, সাধারণ সম্পাদক এ এ সালাম, রাউজানের উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার বাবুল, মিরসরাইয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনসহ নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত