টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নেপালে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়াতে পারে

naচট্টগ্রাম, ২৬ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: নেপালে গত ৮১ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮৬৫ লোক নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছে অনেকে। ফলে আরো বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে রিখটার স্কেলে ৭.৯ মাত্রার ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু, পোখারাসহ কয়েকটি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৮১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এর গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার। তীব্রতা ৭.৯।
সব চেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি ৩০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে কাঠমান্ডুতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহাসিক টাওয়ার ও ভবন ধসে পড়েছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৮৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের অর্ধেকই রাজধানী কাঠমান্ডুর অধিবাসী। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০০০ মানুষ। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নেপালের পোখারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর এখনো পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।

দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নত এ দেশটিতে শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি তিনগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার ভূমিকম্পের পর খোলা আকাশের নীচে, রাস্তার ফুটপাতে এবং পার্কে রাত কাটিয়েছেন কাঠমান্ডুর বহু মানুষ।

ভূমিকম্পে হিমালয়ে বরফধসে ১৮ জন পর্বতারোহী নিহত হয়েছে। বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া এভারেস্টে কয়েকশ’ পর্বতারোহী আটক পড়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জরুরি অবস্থার ঘোষণার কথা জানিয়ে নেপালের তথ্যমন্ত্রী মিনেন্দ্র রিজাল বলেছেন, ‘এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আছে এমন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’

ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হওয়ার পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নেপালে সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইতোমধ্যেই, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, নরওয়েসহ বহু দেশ সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

নেপাল ছাড়াও ভয়াবহ এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানেও।

বাংলাদেশে এ ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কিছু ভবন দেবে গেছে এবং বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। বহুতল ভবন থেকে নামতে গিয়ে এবং আতঙ্কে হার্ট-অ্যাটাকে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভবন থেকে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।

ভারতে ভূমিকম্পে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে নয়জন নিহত হয়েছে বিহারে। নয়াদিল্লিসহ ভারতের পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও সিকিমেও এ কম্পন অনুভূত হয়। দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে ১৯৩৪ সালে নেপালে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ কয়েকটি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ওই ভূমিকম্পে ৮৫০০ জন মারা গিয়েছিল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত