টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডিসি সাহেবের বলিখেলা: চ্যাম্পিয়ন শামশু বলি

Cox's Boli Kela Pic_1
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলিখেলার ৬০ তম আসরের শেষ দিনে গ্যালারী মাতিয়েছে দর্শকেরা।  প্রথম দিনের উপস্থিতি কম হলেও তা কাটিয়ে ফাইনাল খেলা ছিল জমজমাট। ২৫ এপ্রিল শনিবার বিকালে কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমি স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে ২৪ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রাণান্তকর লড়াই করে রামু জোয়ারিনালার জহির বলীকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে নেন উখিয়ার শামশু বলী।
তবে এ যাবতকালের অপরাজিত দিদার বলী অন্যান্য বারের খেলায় অংশ নিলেও বলিদের অবমূল্যায়নের অজুহাত দেখিয়ে খেলায় অংশ গ্রহণ করেননি। এ সুযোগে শামশু বলির ভাগ্যে জুটল ডিসি সাহেবের ৬০ তম বলিখেলার চ্যাম্পিয়নশীপ। খেলা শেষে তার হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধন অতিথি জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। এ সময় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে আহমদ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা ক্রিড়া সংস্থার সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, অনুপ বড়ুয়া অপু, খেলা বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু, জেলা ক্রিড়া সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ, আমিনুল ইসলাম মুকুলসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।  এতে সভাপতিত্ব করেন খেলা আয়োজন কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) ড. অনুপম সাহা।
কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলায় অংশ নিতে বিভিন্ন বয়সের বলীরা আসেন বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মতো। জেলার টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, বান্দরবান, রামু, পেকুয়াসহ বিভিন্ন স্থান ক্রিড়ামোদিরা আসতে থাকে। নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করে গ্যালারীতে অবস্থান নেয়। করতালী দিয়ে মাতিয়ে তুলে পুরো দর্শক গ্যালারী। এছাড়া স্টেডিয়াম মাঠের আশপাশের সবগুলো ভবনের ছাদে অবস্থান নেন কৌতুহলী দর্শক। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বলিখেলার মঞ্চের চারপাশে ঘুরছিল বাদক দল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢোলের তালে তালে শুরু হয় ডিসি সাহেবের বলী খেলা। শেষ হয় সন্ধ্যা ৬ টার দিকে।
খেলা পরিচালনা করেন কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবীর।
এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও বৈশাখী মেলায় হরেক রকম পসরা নিয়ে ভিড় করেছেন দোকানিরা। স্টেডিয়ামের চারপাশে বসেছে নানা রকমের খেলাসামগ্রীর দোকান। তবে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বসানো হয়েছে জুয়ার আসর। এ নিয়ে অনেকই ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে। এ জন্য আয়োজদের দায়ী করেছেন  ধর্মপ্রিয় মানুষেরা। ডিসি সাহেবের ৬০ তম এ খেলা ২৪ এপ্রিল শুরু হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বলিরা অংশ নেন। এ দিকে প্রথম দিনের মতো শেষ দিনেও অবমূল্যায়নের অভিযোগ ছিল বলিদের। তাদের অভিযোগ, অনেক নামিদামী বলিকে ৫০০/৭০০ টাকায় বিদায় করা হয়েছে। আবার অনেককে একদম দেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু। তিনি বলেন, বলিদের অতীতের চেয়ে বেশী সম্মান করা হয়েছে। তাদের অসম্মানিত করার অভিযোগের ভিত্তি নেই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত