টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভূমিকম্পে নেপালে ৭৫৮ জনের মৃত্যু

naচট্টগ্রাম, ২৫ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :ভূমিকম্পে নেপালে কমপক্ষে ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে শুধু কাঠমাণ্ডুতেই ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের ত্রাণবাহী একটি বিমান নেপালে পৌঁছেছে।

নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫৬ মিনিটে ৭.৯ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। আর ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত ১৮ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটি একইসঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে।

ভূমিকম্পে নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের রেশ কেটে যাওয়ার পরপরই হতাহতের খবর আসতে শুরু করেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রথমে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ভূমিকম্পে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর কিছু সময় পরে রয়টার্স জানায়, ভূমিকম্পে অন্তত ৪৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে বিবিসি জানায়, ভূমিকম্পে ৭১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও বহু লোক। ধসে গেছে অনেক পুরোনো ভবন।

ভূমকিম্পের কারণে রাস্তাঘাটে ফাটল ধরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাটের পাশাপাশি টেলিফোন ও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে গেছে। বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণবাহী বিমান উঠা-নামায় সমস্যা হচ্ছে।

আহত এক শ্রমিক বলেন, ‘পুরো পৃথিবী ঘুরছিল। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হাসপাতালের সবাই আতঙ্কিত ছিল।’

হিমালয় এলাকায় এটা ছিল গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প। ১৯৩৪ সালের পর এ ভূকম্পনটিই সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই সময়ে ৮.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছিল।

ভূমিকম্পে কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ঐতিহাসিক ধারা টাওয়ার ধসে পড়েছে। ভবনের ভেতর আটকা পড়েছে অন্তত ৫০ জন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপ পরিণত হয়েছে। চারপাশেই আহত ও আতঙ্কিত লোকজনের আহাজারি। হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই।

ভারতের রাজধানী দিল্লি ছাড়াও লক্ষ্মৌ, কলকাতা ও উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভূমিকম্পে। এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিহারেরই সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিব্বতে ৫ জনে মৃত্যু হয়েছে।

তুলনামূলক কম ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্রুত দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কাজে সহায়তা করার নির্দেশও দিয়েছেন।

মতামত