টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চসিক নির্বাচনে জয়-পরাজয় দুই ইস্যুতে

cccচট্টগ্রাম, ২৫ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে দুই ইস্যুতে। যদিও ভোটারদের টানতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ৩৬টি এবং বিএনপি সমর্থিত উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী এম মনজুর আলম ৫৪টি ইস্যুর ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

আ জ ম নাছির উদ্দিন সর্বোপরি চট্টগ্রামকে মেগাসিটি এবং এম মনজুর আলম উন্নত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার কথা বলেছেন ইশতেহারে, যা নজর কেড়েছে ভোটারদের। কিন্তু ভোটাররা যে দুটি ইস্যূকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তা হচ্ছে ‘নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ। অপরটি হচ্ছে, সন্ত্রাসমুক্ত নগরী।’

বিএনপি সমর্থিত উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী এম মনজুর আলম ইশতেহারে সন্ত্রাসমুক্ত নগরী আর জলাবদ্ধতা ও ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধমুক্ত নগরী গড়ে তোলার বিষয়কে প্রধান্য দিয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন।

সচেতন মহলদের মতে, জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি স্থায়ী সমস্যা। অপরদিকে নগরীতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তেমন একটা নেই বললেই চলে। যা আছে তা হচ্ছে চোর-ছিনতাইকারী ও মাদকসেবিদের উৎপাত। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের দাপটে নগরীর কিছু মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

যা থেকে বাঁচতে এম মনজুর আলমের সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়ে তোলার ইস্যুটি নগরীর কিছু মানুষের মনে দাগ কাটতে পারে। তবে শতভাগ মানুষের দাগ কাটবে জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার পঁচা দুর্গন্ধের যন্ত্রণার বিষয়টি। যা নির্বাচনের দিন ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়া-আসার সময়ও পোহাতে হবে নগরবাসীকে।

এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ এবং সন্ত্রাসমুক্ত নগরীর বিষয়টিকে প্রধান ইস্যু এবং সেই সাথে নগরীর উন্নয়ন করার যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে মানুষ ভোট দেবে এবার। বলা যায় এই দু’টি ইস্যুর উপর নির্ধারণ হবে মেয়র পদে জয়-পরাজয়। সেক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন।

এ ব্যাপারে নগরীর মুরাদপুর এলাকার ব্যবসায়ী সিজলের মালিক ওয়াহিদুর রহমান, খাজা রেস্টুরেন্টের মালিক আবদুল গফুর, রসুল ভিলার মালিক গোলাম রসুল, বহদ্দারহাট মাছ ব্যবসায়ী আবদুল খালেক, খাজা মোবাইল সার্ভিসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, চকবাজার ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা আবদুল বাতেন, শুল্কবহর ওয়ার্ডের কাঠ ব্যবসায়ী আবুল কালাম, আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনির সরকারি কার্যভবন-১ এর বাসিন্দা পেয়ারুল হকসহ বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা আলাপকালে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলে এম মনজুর আলম গতবার মেয়র হন। কিন্তু ৫ বছরে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা এতোটুকু কমাতে পারেন নি। বরং অনিয়ন্ত্রিত পদেক্ষেপে জলাবদ্ধতা দু:সহ হয়ে উঠেছে।

ভোটাররা বলেন, মনজুর আলম নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন জলাবদ্ধতাকে জলজট বানিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তার উপর এখন নতুন ইস্যু নিয়েছেন সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়ে তোলা। যা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। তাকে আমরা আর বিশ্বাস করি না।

ভোটাররা আরো বলেন, আপনারাই বলুন সন্ত্রাস বলতে এখন কি কিছু আছে। যা আছে, চোর-ছিনতাইকারী, মাদকসেবি ও ব্যবসায়ীদের উৎপাত। যারা আধিপত্য বিস্তারে খুন-খারাবিও করে। গত ৫-৬ বছর ধরে আমরা তাই দেখে আসছি। আর এদের দমানোর দায়িত্ব পুলিশের। মনজুর আলমরা এদের আরও লালন পালন করেছে।

ভোটাররা আরও বলেন, সাবেক এই ব্যর্থ মেয়রের কথায় আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি না। নতুন হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দিনকে হাতি মার্কায় ভোট দিয়ে প্রথমবারের মত মেয়র নির্বাচিত করব। তিনিও যদি ভুল করেন তাহলে মনজুর আলমের মতো পরবর্তী নির্বাচনে তাকেও না বলব।

একইভাবে নগরীর চান্দগাঁও থানার ফরিদের পাড়া এলাকার মোজাম্মেল, আয়েশা খাতুন, শমসের পাড়া এলাকার ফরিদ আহমদ, বাঁকলিয়া থানার বলিরহাট এলাকার টিপু সুলতান, কালামিয়া বাজার এলাকার মোদাচ্ছের হোসেন, মোহরা ওয়ার্ডের মসিউর রহমান ঝন্টু, মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার তরিকুল ইসলাম, পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলি এলাকার মফিজুর রহমান হিরন বলেন, আ জ ম নাছির উদ্দিন মেয়র হলে নগরীতে সন্ত্রাস বেড়ে যাবে। তাই মনজুর আলমকেই ভোট দেব।

প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী যখন মেয়র ছিলেন তখন নগরীতে সন্ত্রাস ছিল বেশি। মনজুর আলম মেয়র হওয়ার পর সন্ত্রাস কিছুটা কমেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস বাড়ে। তাই আ জ ম নাছির উদ্দিনকে ভোট দেব না।

অপর প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ বড় সমস্যা হলেও সন্ত্রাস থেকে শান্তিতে থাকতে পারব। তাছাড়া আ জ ম নাছির উদ্দিন মেয়র হলে জলাবদ্ধতা ও ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাব তারই বা গ্যারান্টি কি?

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সন্ত্রাস বাড়ে এটা ঠিক নয়। বরং মনজুর আলমদের সৃষ্ট সন্ত্রাসকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিরোধ করেছে। এখন যা হয় চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদকসেবি ও ব্যবসায়ীদের উৎপাত। আমি কথা দিচ্ছি মেয়র হলে সিএমপির সাথে সমন্বয় করে এসব সমস্যা নির্মূল করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি শান্তির শহরে পরিণত করা হবে।

তাছাড়া আমার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ অপসারন করা হবে। নগরবাসীর কাছে আমার আবেদন, আপনারা একবার আমাকে মেয়র হওয়ার সুযোগ দিন। ব্যর্থ হলে মনজুর আলমের মত আপনাদের কাছে আর ভোট চাইতে যাব না।

মনজুর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দলবাজদের অভয়ারণ্য। আমি মেয়র হলে চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করব। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

জলাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা বৃষ্টির কারণে হয়, কখনো-কখনো আপনাদের (সাংবাদিকদের) কারণেও হয়। কোথাও যদি সামান্য বৃষ্টিতে তিন ইঞ্চি পানি ওঠে তখন আপনারা তা গণমাধ্যমে প্রচার করেন।

তিনি দাবি করেন, একসময় বৃষ্টি হলে নগরীতে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকত। এখন মাত্র তিন ঘণ্টা পানি থাকে। এটাকে জলাবদ্ধতা নয়, জলজট বলা হয়। যার নিরসন কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তিন ঘন্টা জলজট কমিয়ে তিন মিনিটে আনা সম্ভব বলে অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত