টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইন্টারনেটের দাম কমাচ্ছে মোবাইলফোন অপারেটররা!

itচট্টগ্রাম, ২৩ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): আরেক দফা ইন্টারনেটের দাম কমাচ্ছে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো। দেশে ইন্টারনেট (মোবাইল) ব্যবহারকারী বৃদ্ধি এবং মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর অায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ইন্টারনেট সেবা থেকে অাসায় অপারেটরগুলো ইন্টারনেট বা ডাটা সার্ভিস নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করেছে।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন সম্প্রতি ইন্টারনেটের দাম কমিয়েছে। অারেক অপারেটর রবি নতুন প্যাকেজ পরিকল্পনা করছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রায়াত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক হালে সবচেয়ে কম দামে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে বাংলালিংক ও এয়ারটেলের দাবি, অন্যান্য অপারেটরের চেয়ে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে অাগের তুলনায় বেশি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইলফোন অপারেটরগুলো ৯ বছর পরে বিভিন্ন সংগঠনের অান্দোলনের মুখে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটের দাম কমায়। অপারেটরগুলো ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি কিলোবাইট ডাটার জন্য ২ পয়সা করে চার্জ করে। অথচ এই ৯ বছরে কয়েক দফায় ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হলেও অপারেটররা একই দামে গ্রাহকদের কাছে ইন্টারনেট বিক্রি করে। মূলত ২০১৩ সালের জুলাই মাসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিঅারসি ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়ে নির্দেশনা জারি করলে অপারেটরগুলো দাম কমায়।

বর্তমানে দেশে (২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৯ হাজার। আর মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের মোট অায়ের ১০-১৫ (কখনও কখনও ২০ শতাংশ পর্যন্ত)। গ্রামীণফোন তার ইন্টারনেট ফর অল কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এ অপারেটরটির লক্ষ্য নিজস্ব ৫ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক।

অায়ের ক্ষেত্রে বাংলালিংকের ৬, রবির ৫ এবং এয়ারটেলে ১০ শতাংশ অাসে ইন্টারনেট সেবা থেকে। প্রতি প্রান্তিকের অার্থিক বিবরণী প্রকাশের সময় রাজস্ব অায়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অপারেটরগুলো ভয়েসের পাশাপাশি টুজি এবং থ্রিজি ডাটা ব্যবহারের কথা বলে।

সিটিসেল মোবাইল এখন টিকে অাছে ইন্টারনেট সেবা বিক্রি করে। অার টেলিটকের নব জন্ম হয়েছে থ্রিজি চালুর পরে। এ দুটি অপারেটরের ইন্টারনেট থেকে অায়ের সঠিক পরিমাণ জানা না গেলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অপারেটর দুটি টিকেই অাছে ডাটা সেবা দিয়ে। অপারেটর দুটোর গ্রাহক সংখ্যা যথাক্রমে ১২ লাখ ৬৩ হাজার এবং ৩৯ লাখ ২ হাজার।

গত ৩০ মার্চ ইন্টারনেটের দাম কমানোর ঘোষণা দেয় গ্রামীণফোন। এক গিগা ইন্টারনেটের দাম ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৭৫ এবং দুই গিগার দাম ৪০০ থেকে কমিয়ে ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করে। সব ধরনের গ্রাহককে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা দিতে এ দুটি প্যাকেজসহ মোট সাতটি প্যাকেজ পুনর্বিন্যাস করে অপারেটরটি।

এদিকে মোবাইল অপারেটর রবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ইন্টারনেট প্যাকেজের চেয়ে অারও কম দামে ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সেবা দিতে ‘নতুন প্যাকেজ’ পরিকল্পনা করছে রবি। বিষয়টি একেবারে পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকায় অপারেটরটির কেউই উদ্ধৃত হয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলালিংকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক তাইমুর রহমান জানান, তাদের মোট অায়ের ৬ শতাংশ অাসে ডাটা সার্ভিস থেকে। তার মতে, বিনামূল্যের ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবা তাদের অায় অনেকাংশে খেয়ে ফেলছে। এই সেবাগুলো ভবিষ্যতে অায়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ডাটার দাম কমানো হলে মানুষ বেশি-বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করবে। ফলে তখন ও‌‌‌টিটি সেবা (ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন, স্কাইপে) বেশি বেশি ব্যবহার হলেও এখাতের আয়ে ততটা প্রভাব ফেলবে না।

এয়ারটেলের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান শমিত মাহবুব শাহাবুদ্দীন জানান, এমনিতেই তাদের ইন্টারনেট প্যাকেজ অন্যান্য যেকোনও অপারেটরের চেয়েও ‘স্মার্ট’। তিনি বলেন, অামরা প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট এবং ইনোভেটিভ ডাটা সার্ভিস নিয়ে অাসছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অপারেটরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, অপারেটরগুলো মূলত একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা ‌‌ দেখে বাজারে কে নতুন কী ডাটা প্যাকেজ ছাড়ছে। একজন একটি প্যাকেজ বাজারে ছাড়লেই অন্য অপারেটর সেই প্যাকেজের ‌‌‌ চেয়ে কম দামে ‘প্যাকেজ ডিজাইন’ করে দ্রুত বাজারে ছাড়ে। এমনও দেখা যায়, দাম কমানো হয়নি কিন্তু ডাটার পরিমাণ বাড়িয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি অাকর্ষণের চেষ্টা করে অপারেটররা। অার এর সুফল পায় মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।-বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত