টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে বিয়ের আগে প্রবাসী যুবক নিখোঁজ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Photoচট্টগ্রাম, ২২ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):  নিজেদের একমাত্র ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে সুদূর ওমান থেকে স্বপরিবারে দেশে ফিরেছেন নির্মল চন্দ্র দাশ। মাস খানেক আগে মা আর বাবার সঙ্গে ছেলে সুমন চন্দ্র দাশও (২৬) ফেরেন দেশে। ঘটা করে ছেলের বিয়ে দিতে দেখে শুনে কনেও ঠিক করা হয়। কনে প্রিয়াংকা দাশের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। আর বরের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ৯ নম্বর ইউনিয়নের মিঠাছরা গ্রামে। 

বিয়ের দিনক্ষণ ছিল গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল)। তবে গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিয়ের কেনাকাটা করতে স্থানীয় মিঠাছরা বাজারের যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি সুমন। সে থেকে তাঁর সাথে থাকা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

সুমনের বাবা নির্মল চন্দ্র দাশ ও মা দেবিকা রাণি দাশ দাবি করেন, ‘সুমন নিখোঁজ নয়, তাকে বিয়ে সংক্রান্ত কারণে অপহরণ করা হয়েছে।’ তাঁরা জানান, ‘ছেলের বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে অপরিচিত একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে মা দেবিকা রাণি দাশকে ফোন করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে এক যুবক হুমকি দিত। রবিবার সুমন নিখোঁজ হওয়ার পর অন্য আরেকটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে জানানো হয়েছে প্রিয়াংকার সাথে সুমনের বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।’ নির্মল ও দেবিকা জানান, ‘ফোনেরও ওই যুবকের শর্তেও আমরা আমাদের একমাত্র ছেলেকে ফিরে পেতে বিয়ে ভেঙ্গে দিতেও রাজি হয়েছি, কিন্তু এখনো আমাদের ছেলে বাড়ি ফেরেনি।’

জানা গেছে, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্বপরিবারে প্রবাসে থাকেন মিঠাছরা গ্রামের রাশমোহন বাড়ির নির্মল চন্দ্র দাশের পরিবার। ছেলে সুমন চন্দ্র দাশের জন্মও প্রবাসে। নিজ দেশের কনের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিবেন বলে গত মার্চ মাসের প্রথম দিকে তাঁরা দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে নিজেদের একমাত্র সন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মা বাবা দু’জন কেঁদে কেঁদে পাগল প্রায়।

পারিবারিক অসন্তোষ কিংবা বিয়ে সংক্রান্ত পছন্দ অপছন্দ নিয়ে সুমন আত্মগোপনে কিনা জানতে চাইলে তাঁর মা দেবিকা রাণি দাশ বলেন, ‘চারদিকে দেখেশুনে ছেলের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে ফটিকছড়িতে সম্মন্ধ ঠিক করা হয়েছে। সে হিসেবে সুমন বিয়ের জন্য নিজে কেনাকাটা করেছেন।’

এদিকে সুমন নিখোঁজের ঘটনায় গত সোমবার (২০ এপ্রিল) তাঁর মা দেবিকা রাণি দাশ মিরসরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (যার নম্বর ৭৬৭) রুজু করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মিরসরাই থানার ওসি ইমতিয়াজ এএমকে ভূঁইয়া জানান, ‘নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন দেবিকা রাণি। ডায়েরিতে উল্লেখিত মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত এবং নিখোঁজ সুমনকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

মতামত