টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুনিয়াটা চলে মাথা ও মগজ দিয়ে, মোস্তাফা জব্বার

unnamedবর্তমান দুনিয়াটা মাথা ও মগজ দিয়ে চলে। মাথা ও মগজের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। দুনিয়াখ্যাত স্টিফস জবস মা বাবার বিবাহ পূর্ব সন্তান হলেও মন্দিরে থেকেও মগজের জোড়ে বিশ্ব খ্যাতি লাভ করেছেন। সাংবাদিকতা দিয়ে আমার জীবন শুরু । বিশ্ব ইয়াতিম দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

আজ দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বিশ্ব ইয়াতিম দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোস্তাফা জব্বার আরো বলেন, এতিমদের সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা পরিবর্তন করা দরকার। এতিমরা অবহেলার পাত্র নন, এতিমেরা পৃথিবীর যেকোন মানুষের চেয়ে ভাল করতে পারে , কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে সে সহজভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে। মানুষ সম্পদকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। সিঙ্গাপুর সেভাবে এগোচ্ছে, আমাদের চেয়ে সিঙ্গাপুরের মানুষের মাথাপিছু আয় ৫০ গুণ বেশি।

সমস্ত শিশুরা যাতে কম্পিউটার শিক্ষা নিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুদের ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আমি যে কোন ধরনের সহযোগিতা করব। আমি একজন কৃষকের সন্তান, একটি সন্তান যদি মানুষের মত মানুষ হয় তাহলে তারা এতিম বলে কিছু থাকবে না। উপস্থিত এতিমদের উদ্দেশ্যে এ সময়ে পি.ডি.সির পরিচালক হেলাল উদ্দিন একশত এতিম ছেলে মেয়েদের বিনা পয়সায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সুযোগ দানের ঘোষনা দেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, হেলাল উদ্দিন পি.ডি.সির পরিচালক ও মোস্তাফা জব্বারের সাবেক ছাত্র।

এ সময় চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের আহবায়ক ও বাংলাপোস্টবিডি.কমের সম্পাদক এম.আলী হোসেন সহ আয়োজককারীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

আজ বাংলাদেশ, স্লোভেনিয়া, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, ইউএসএ, জার্মানী, ফ্রান্স, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, জর্ডান, ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক, প্যালেষ্টাইন, জাম্বিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান, নেদারল্যান্ড ও উগান্ডায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।

“একটি স্বপ্ন : কোন শিশু আর অভুক্ত থাকবে না”

এই সুন্দর পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ বৃথা হয়ে যাবে, যদি একটি শিশুও অভুক্ত অবস্থায় মারা যায়। সকল শিশুর মুখে খাবার তুলে দেয়াকে উৎসাহিত করতে ওয়ার্ল্ড অরফান সেন্টার উদযাপন করছে ২০ই এপ্রিল বিশ্ব এতিম দিবস। এই বছরের বিশ্ব এতিম দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “Feed the Orphans  তথা, এতিমকে খাওয়ান”

সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও এতিমদের অধিকার নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে ওয়ার্ল্ড অরফান সেন্টার ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের আর্তÑসামাজিক পুনর্বাসন ও শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠনটি ২০১৪ সাল থেকে ২০ এপ্রিল বিশ্ব এতিম দিবস পালন করে আসছে। গত বছর পৃথিবীর প্রায় ৩১টি দেশের ৫০টি শহরে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। এই বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও বিশ্বের অনেক দেশে এই দিবসটি পালন করা হয়েছে।

দিবস উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড অরফান সেন্টার কর্তৃক চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমীতে দিনব্যাপী আলোচনাসভা, র‌্যালী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনোদনের লক্ষে যাদু প্রদর্শনী ও খাবার বিতরনের আয়োজন করা হয়েছে এবং সেচ্ছাসেবকদের জন্য উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব ও বিজয় বাংলা ফন্টের উদ্ভাবক জনাব মোস্তফা জব্বার। অনুষ্ঠান উদ্ভোধন করেন ডাব্লিও.ও.সি’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আমানউল্লাহ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুসলিম চ্যারিটি ইউকে’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি জনাব ফজলুল করিম এবং বিশিষ্ট তরুন উদ্যোক্তা জনাব তাওহিদ আহমেদ। ডাব্লিও.ও.সি’র সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইয়ুব খান, ইফতি আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, ইমতিয়াজ শাহরিয়ার, অনেশ বড়–য়া, মনোয়ার হোসেন, ইয়াছমিন রুমি, তাজরিয়ান তামান্না, জাকিয়া তাছনিম, জান্নাত ফেরদৌস, তৃষা সেন, মুখতার হোসেন, আমজাদ হোসেন, সাঈদ আহমেদ, রকিব সাহা, মামুনুর রশিদ, জিল্লুর রহমান, মোহাম্মদ শিহাবসহ আরো অনেকে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরন করা হয়।

মতামত