টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে শিক্ষকের ওপর হামলা, আহত ৩

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২১ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): খেলায় উপস্থিত না থাকার জের ধরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় তিন শিক্ষক সামান্য আহত হয়েছেন। একই সময় বিদ্যালয়ের ৫টি দোকান বিক্রির কথা চুড়ান্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মিরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়িয়া অঞ্চল করেরহাট কয়লা শহীদ জাকির হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকরা প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাহাড়িয়া পথ হেটে ওই বিদ্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মহিউদ্দীনের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়ে আসছে। যে কোন অজুহাতে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিছুদিন আগে এক মহিলা শিক্ষককে নাজেহাল করা হলে তিনি সরাসরি লিখিত অভিযোগ দেন। অনেক দেন দরবার করেও সেই অভিযোগটি সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা। মুখে সমঝোতার কথা বলা হলেও কার্যত নাজেহালকারীরা লিখিত কোন মুচলেকা দেননি। ফলে অপরাধিদের সাহস দিন দিন বেড়েই চলেছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহার করছেন এক ঠিকাদার। বিদ্যালয়ের জায়গায় দোকান করা হলেও তার ভাড়া নেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এরাই আবার অভিযোগ করে বেড়ায় শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫টা দোকান বিক্রির কথা চুড়ান্ত হয়েছে। কথা চুড়ান্ত করেন স্থানীয় মেম্বার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মহিউদ্দীনসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা। এই দোকানগুলির ভাড়া আদায় করতো প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই আয় থেকে বিদ্যালয়ের ছোটখাট উন্নয়ন করা হতো। ওই ৫টা দোকানের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে সেখানে এক একর ৬০ শতক যে জায়গা আছে এই ৫টা দোকানও তার অন্তর্ভুক্ত বলে স্থানীয়রা জানান। দোকান বিক্রির কথা নিশ্চিত করেছেন পরিচালনা পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য। তিনি স্বীকার করেন, ওই দোকানগুলো শহীদ জাকির হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

মঙ্গলবার যে সকল শিক্ষকের ওপর হামলা হয় তারা হলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন কান্তি নাথ, সহকারীর শিক্ষক কামরুল হাসান ও সরোয়ার উদ্দীন। অপর শিক্ষক জসিম উদ্দীন চৌধুরী মিরসরাইয়ে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।

শিক্ষকরা জানান, ওই বিদ্যালয়ে প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। সম্প্রতি চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের ছুটিতে (০২ দিন) কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে খেলার আয়োজন করেন সভাপতি মহিউদ্দীন মেম্বার। শুধু পহেলা বৈশাখে কোন শিক্ষক খেলায় উপস্থিত ছিলেন না। এই বিষয়টিকেই ইস্যু করে সভাপতি মহিউদ্দীন এবং তার সহযোগিরা। এরই মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল ২জন শিক্ষক ছুটিতে যান। প্রধান শিক্ষক যান বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলায়। অপর শিক্ষক অসুস্থ থাকায় বিদ্যালয়ে হাজির হতে পারেন নি। ফলে সেদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এসে বাড়ি ফিরে যায়। ফলে তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এবং ইউএনওর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। আজ মঙ্গলবার শিক্ষকরা (৩ জন) বিদ্যালয়ে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। শিক্ষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

কয়লা শহীদ জাকির হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, মূলত বিদ্যালয়ের জায়গা বিক্রির জন্যই নানা অজুহাত সৃষ্টি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার তারা (স্থানীয়রা) সেই লক্ষে (জায়গা বিক্রি) পৌঁছে গেছেন। আমরা তাদের কথামত চল্লে সব ঠিক, প্রতিবাদ করলেই হামলা ও লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হয়। তিনি দাবি করেন বিক্রি করা ৫টি দোকান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায়। তিনি যখন ওই বিদ্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তখন ওই দোকানগুলো থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাড়া আদায় করতো।

অবশ্য শিক্ষকরা স্বীকার করেন ওইদিন (১৯ এপ্রিল) বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক হলেও হাজির হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তারা এটাও স্বীকার করেন প্রত্যন্ত অঞ্চল বিধায় শিক্ষকদের যাতায়াতে বেশ অসুবিধা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী ও জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়নি। তবে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলেও জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও স্থানীয় করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. মহিউদ্দীন হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছে তারা নিয়মিত বিদ্যালয়েউ উপস্থিত থাকেনা। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চরম ব্যাঘাত হয়। শিক্ষকদের অসহযোগীতার কারণে বিদ্যালয়ে কোন জাতীয় দিবস পালন করা যায়না। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত