টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হালদা নদীতে নমুনা ডিম ! দু’পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

haldaচট্টগ্রাম, ২০ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা’ মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে।

২০ এপ্রিল সোমবার মা মাছ ডিম ছাড়ার খবরে কয়েকশ নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাল পেতে। জানা যায় হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম হালদা নদীতে দেখে জাল ফেলার মহোৎসবে মেতে উঠে। হালদা নদী পরিদর্শনকালে দেখা যায় সংগ্রহকারীরা আশানুরুপ ডিম না পেয়ে দুপুরের দিকে তারা ঘাটে ফিরে আসে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বোয়াইল্ল্যার মুখ এলাকার সুমন দাশ প্রথম নমুনা ডিম সংগ্রহ করে।

এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলেরা আজিমার ঘাট, সোনাইর মুখ, মাথুয়া, মইশকরম, মাদার্শা, নাপিতের ঘাটাসহ কয়েকটি পয়েন্টে ডিম ধরার জন্য নৌকা ও জাল নিয়ে নেমে পড়ে।

এ সময় হালদা নদীর আজিমার ঘাট এলাকার বাঁকে গিয়ে দেখা যায় আবুল কালাম, বিমল দাশ, নুরুল আজিম, টিটু বড়ুয়া, ছোটন দাশ, রোশন নামের একজন সহ কয়েকশ নৌকা এখানে অবস্থান নেন। তারা জানান আশানুরূপ ডিম সংগ্রহ করতে না পারলেও কিছু কিছু ডিম সংগ্রহ করেছেন। যে গুলো কুয়ার মধ্যে প্রক্রিয়া করলে রেনু ফোটানো সম্ভব হবে।

কাগতিয়া পয়েন্টে দেখা যায় কিছু সংখ্যক ডিম সংগ্রহকারি আধ বালতি করে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেছেন। টিপু বড়ুয়া নামের এক সংগ্রহকারি প্রায় এক বালতি নমুনা ডিম সংগ্রহ করেছে বলে সাংবাদিকদের জানান। ডিম সংগ্রহ করতে আসা আজিমের ঘাট এলাকার সৌদি আরব প্রবাসি নুরুল আজিম জানান প্রতি বছর ডিম ছাড়ার মৌসুমের শুরুতে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন শুধুমাত্র ডিম সংগ্রহের জন্য।

এ লক্ষ্যে তিনি এবার চারটি নতুন নৌকা তৈরী করেছেন। ডিম সংগ্রহ করে লাভ বা লোকসান যাই হোক তিনি মুলত শখের বশে ডিম সংগ্রহ করেন থাকেন। তার পিতা আবুল কালাম একজন পেশাদার ডিম সংগ্রহকারি। তিনি জানান এই বছর হালদা নদীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মা মাছ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাউজান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, হালদা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রবল বর্ষণ হলে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে আগামী পূর্ণিমা তিথিতে ডিম ছাড়বে।

উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদায় নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদীর মিঠা পানিতে রুই,কাতলা, মৃগেল,কালিবাউশ জাতীয় মা মাছ চৈত্র বৈশাখ মাসের আমবশ্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে ডিম ছাড়ার জন্য হালদায় প্রবেশ করে। এ সময় রাউজান, হাটহাজারি ও ফটিকছড়ি এলাকার জেরে সম্প্রদায়সহ কয়েক হাজার মৎস্যজীবি ডিম সংগ্রহের জন্য নৌকা ও জাল নিয়ে হালদায় অবস্থান নেন। এই সময় হালদার উভয় পাড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংগ্রহ করা ডিম সরকারি হ্যাচারি ও ব্যক্তি উদ্দ্যোগে সৃষ্ট কুয়ার মধ্যে ডিম থেকে রেনুতে পরিণত করে থাকে। ফুটানো রেণু ক্রয় করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্যজীবিরা হালদা পাড়ে ভিড় জমায় । দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রেণুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

মতামত