টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে প্রশাসন জন প্রতিনিধি মুখোমুখি

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৯ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):  মিরসরাই উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের টানাপোড়ন চলছে। উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের জন প্রতিনিধিরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুলছেন বিভিন্ন অভিযোগ। প্রথমে গত ৩১ মার্চ মিরসরাই উপজেলা সমন্বয় সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনরা পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। এর পর উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান -২ ইয়াছমিন আক্তার কাকলীর নেতৃত্বে গত ২ এপ্রিল গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রীর চট্টগামের বাসায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে যায় ইউপি চেয়ারম্যানরা।

মন্ত্রীর বাসায় বৈঠকে যোগ দেওয়া কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রীকে এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিতেও তাঁরা অনুরোধ করেন। মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেবেন বলে চেয়ারম্যানদের আশ্বাস দেন।

বিভিন্ন সরকারী অফিসে অনুসন্ধান করে জানা যায়, অনেক সময় ইউপি চেয়ারম্যানরা অন্যায় তদবির করে থাকেন। এসব অন্যায় তদবির রাখতে পারেন না বলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের দুরত্ব বাড়ে। গত ৩১ মার্চ মিরসরাই উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় জনপ্রতিনিধিরা পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, পুলিশের কারনেই মিরসরাই উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। রিকুইজিশান বানিজ্যে অতিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ২ ইয়াছমিন আক্তার কাকলীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহম্মদ আশরাফ হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমন্বয় সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনেন।

সমন্বয় সভায় ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুল কাদের চৌধুরী সমন্বয় সভায় তার বক্তব্যে বলেন, মিরসরাই থানার পুলিশ আসামী ধরতে গিয়ে আবুতোরাব বাজারের হানিফ নামের এক দালালের মাধ্যমে অর্থ বানিজ্য করে। এতে নিরীহ মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম তাহের ভূঁইয়া বলেন, ঘুষ নিয়ে কোন আসামীকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ন্যাক্কার জনক। থানার গোলঘরে চলে পুলিশের বিচার বানিজ্য। যেসব ঘটনা গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি সম্ভব সেই ঘটনাগুলোকে থানায় নিয়ে পুলিশ নানা জটিলতা সৃষ্টি করে মানুষদের হয়রানী করছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের কারনেই দিন দিন আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে।

১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, পুলিশ স্থানীয় কিছু দালালদের মাধ্যমে বাদী বিবাদীর সাথে আর্থিক লেনদেন করছে। থানায় দালালদের দৌরাত্ম বন্ধের দাবী জানান তিনি।

গত ২ এপ্রিল গৃহায়ন মন্ত্রীর বাস ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত একজন চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে মিরসরাইয়ের উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে অনিয়ম চলে আসছে। বিভিন্ন ভাবে বলার পরও ওই কর্মকর্তারা অনিয়ম থেকে সরে আসেননি। সাম্প্রতিক সময়ে তা মাত্রা অতিক্রম করেছে।

মিরসরাইয়ের বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক সময় কিছু তদবির করেন যেগুলো আইনের বিধি বিধান অনুযায়ী করে দেওয়া সম্ভব হয় না। এতেই বিপত্তি বাধে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আইনী বিধান লঙ্খন করে সে তদবির রক্ষা করা সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধিরা তখনই অসন্তুষ্ট হয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিষোধগার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারী কর্মকর্তা বলেন, আইনের শর্তাবলী না মেনে জনপ্রতিধিদের তদবির রাখতে গেলে পরবর্তীতে এর দায়ভারতো আর তারা নেবেন না। সুতরাং জনপ্রতিনিধিদের অন্যায় দতবির রাখা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, সমন্বয় সভায় মিরসরাই থানার পুলিশের দু’এক জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেন। সে অভিযোগ গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবাহিত করা হয়েছে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিযাজ এমএকে ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারো অভিযোগ থাকলে পুলিশ বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে সে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। এটিই নিয়ম। তা না করে প্রকাশ্য সভায় কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা উদ্দেশ্য প্রনোদিত। এ ঘটনায় স্পষ্ঠ বোঝা যায় যারা এসব অভিযোগ তুলছেন তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি পুলিশ প্রশাসনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার একটি অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে প্রশাসন, পুলিশের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের এমন বৈরীতাকে মিরসরাই বাসীর জন্য নেতিবাচক বলেই দেখছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিরসরাইয়ের একজন পেশাজীবী বলেন, জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন। তাদের সেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রশ্ন তোলার সাহস পায় না। জনপ্রতিনিধিদের এসব অন্যায় ও অগনতান্ত্রিক কার্যক্রম ও আইনের আওতায় আনা জরুরী।

নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে। তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা হলে ক্ষতি সাধারণ জনগনের। তাই নাগরিক অধিকার নিশ্চিত কল্পে এই সংকট সমাধান অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় সাংসদ এবং গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মতামত