টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যে কারণে হঠাৎ প্রচারে খালেদা

khaledaচট্টগ্রাম, ১৯ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামলে সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় তা দেখতেই খালেদা জিয়া হঠাৎ করে প্রচারে নেমেছেন। শনিবার বিকাল চারটার দিকে শুরু হওয়া এই ঝটিকা প্রচারাভিযান চলে রাত নয়টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তিনি সাত থেকে আটটি পয়েন্টে ঢাকা উত্তরে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট ও দোয়া চান।

তবে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তার প্রেস উইং, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী অনেকেই জানতেন না তিনি কোথায় যাবেন। কারণ গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে হয়েছে।

শনিবার বিকাল চারটার কিছু আগে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। তার সঙ্গে মহিলা দলের প্রায় দশজনের মতো কেন্দ্রীয় নেতা। কার্যালয় থেকে বের হয়ে তারা সরাসরি খালেদা জিয়ার বাসায় চলে যান।

এর একটু পরে বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের একটি গাড়ি, ব্যাক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের (সিএসএফ) গাড়ি তার গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা হয়।

এসময় বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে গুলশানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হবেন। তাৎক্ষণিক তার (খালেদা) প্রেস উইংসদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, তারা কিছু জানেন না বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

এরমধ্যেই বিকাল চারটার একটু পরে খবর আসে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হয়ে গুলশানের পিংকসিটিতে যাচ্ছেন। এরপর সবাই ছুটে যায় পিংকসিটিতে।

যদিও খালেদা জিয়া ছাড়াও সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের প্রচারে দলের শীর্ষ নেতাদের কর্মসূচিও আগেভাগে সাংবাদিকদের জানানো হয়। কিন্তু এবার সংশ্লিষ্টরাই খালেদা জিয়ার কর্মসূচির কথা জানতেন না বলে দাবি করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে হঠাৎ করে তার ব্যক্তিগত শীর্ষ কর্মকর্তাকে প্রচারে বের হবেন বলে জানান খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি একদম গোপন রাখার নির্দেশ দেন। যার কারণে খালেদা জিয়া তাবিথের পক্ষে ভোট চাইতে মাঠে নামবেন এটা ওই ব্যক্তি ছাড়া কারো জানা ছিল না।

দলের অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া দুই দিনের জন্য দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে ঢাকার রাজপথে নামবেন। একদিন উত্তরে ও আর একদিন দক্ষিণে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কয়েকটি পথসভায় অংশ নিবেন।

সেক্ষেত্রে প্রচারের দিন হিসেবে আগামী শনিবার ও রবিবারের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে বলেও জানা গেছে।

তবে এরআগেই হঠাৎ করে প্রচারে নামার বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তার প্রচারে নামাকে কেন্দ্র করে নানা বক্তব্য দিচ্ছে। কেউ আবার তিনি (খালেদা) যাতে প্রচারে নামতে না পারে সেজন্য নির্বাচন কমিশনেরও হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সে কারণে ‘টেস্ট কেইস’ হিসেবে আগেভাগে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া দেখার চেষ্টা করছেন এই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তবে এখনো শনি ও রবিবারের সিদ্ধান্ত বহল আছে বলেও ওই সূত্রে জানা গেছে।

তবে হুঙ্কার দিলেও খালেদার প্রচারে নামার পর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি (খালেদা) যদি নিয়ম মেনে প্রচার চালান তাহলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

দলীয় সূত্রে আরো একটি বিষয় জানা যায়, খালেদা জিয়া শনিবার তাবিথের পক্ষে ঢাকা উত্তরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিবেন। পরের দিন ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রচারে অংশ নিবেন। সেক্ষেত্রে মির্জা আব্বাস জামিন না হলেও আব্বাস খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকতে পারেন।

এসব কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া এসব কর্মসূচি থেকে তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ‘বাস’ মার্কায় ভোট চাইবেন। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনাও করবেন।

ওই কর্মসূচিগুলোতে বিএনপির গুম হওয়া নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যরা থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।- ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত