টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চিনকী আস্তানা-লাকসাম ডাবল রেললাইন উদ্বোধন আজ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৮ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় উপপ্রকল্প মিরসরাইয়ের চিনকী আস্তানা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার রেলপথ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকল্পটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

এ প্রকল্পটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রেলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর ঢাকা-চট্টগ্রামের যাতায়াতের সময় কমবে প্রায় ২ ঘণ্টা। যাত্রীদের আর রেলক্রসিংয়ের জন্য স্টেশনে স্টেশনে অপেক্ষা করতে হবে না। দ্রুত ও নিরাপদ রেলযাত্রার জন্য এই ৬১ কিলোমিটার রাস্তা বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করছেন প্রকল্প পরিচালক এস এম লিয়াকাত আলী। এ বিষয়ে রেলের চিনকী আস্তানা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডাবল লাইন প্রকল্পের পরিচালক এস এম লিয়াকত আলী বলেন, বহু প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ প্রকল্পটি শেষ করতে পেরে আমি খুশি। গত ১ এপ্রিল এটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সময় দিতে না পারায় প্রকল্পটি উদ্বোধনে বিলম্ব হচ্ছে। কোনো অঘটন না ঘটলে ওই দিনই প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হবে। এ পথে রেল চলাচল শুরু হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে প্রায় ২ ঘণ্টা।

জানা গেছে, প্রায় ১হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ডাবল লাইন প্রকল্পের আওতায় চিনকী আস্তানা হতে লাখসাম পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার মেইন লাইন ও ২০ কিলোমিটার শাখা লাইনসহ মোট ৮১ কিলোমিটার মেইন লাইন, ৮টি বড় ব্রিজসহ ৫৩টি ছোট বড় রেল ব্রিজ, ১১টি রেল ষ্টেশন রিমডেলিং, ১৩টি লেভেল ক্রসিং, ৮টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মান করা হয়েছে। এ ছাড়াও এ ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচলের সিগন্যালিং সিষ্টেমের জন্য সিগন্যালিং সেন্ট্রাল ক্ল্যাসিক কন্ট্রোল (সিটিসি) সিষ্টেমসহ মর্ডাণ কম্পিউটার বেইজড ইন্টার লকিং (সিবিআই) স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী থেকে লাকসাম পর্যন্ত ১২টি স্টেশন কম্পিউটার প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ডাবল লাইন প্রকল্পটি চালু হলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুত সময়ে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশোধিত প্রস্তাবনায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও বর্ধিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে রেলের মেগা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা কিন্ত পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ কাজটি তদারক করেন কানাডার ক্যানারেল, অষ্ট্রেলিয়ার স্মেক, জামার্নীর ডিবি, জাপানের দাইনিচি ও বাংলাদেশের এসিআই কোম্পানী। তবে ব্রিটিশ সরকারের আমলে ১৯৬৪-৬৫ সালে চিনকী আস্তানা-লাকসাম পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মানের জন্য জমি অধিগ্রহণ করায় নতুন করে আর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়নি।

এ ছাড়া গত ১৩ ও ১৪ মার্চ গভর্মেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশের (জিআইবিআর) প্রতিনিধরা সরজমিন পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দেন। তাতে এটির সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ লাইনে ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানো যাবে। জিআইবিআর আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। জিআইবিআর প্রতিনিধিরা সন্তেুাষজনক প্রতিবেদন দাখিল করায় এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর সময় নির্ধারণের অপেক্ষায়। রেলের এ প্রকল্প উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের বিষয়েও অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আমরা উদ্বোধনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত