টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাবাস বাংলাদেশ

106946_1চট্টগ্রাম, ১৭ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  জয়ের কাছে থেকে বারবার ফিরে আসা। সেই ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ শেষে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়টা কে যেন অধরাই থাকতো। অবশেষে দেশের মাটিতে রেকর্ডময় এক ম্যাচে প্রতীক্ষিত সেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭৯ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে টাইগাররা।

এদিকে জবাব দিতে নেমে ক্রমেই আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে লড়াইটা জমিয়ে তোলেন অধিনায়ক আজহার আলী ও সরফরাজ আহমেদ। দুজন মিলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু তাদের বেশি দূর এগোতে দেননি আরাফাত সানী। সরফরাজকে (২৪) সাজঘরে ফিরিয়ে এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করেন বাংলাদেশের উদীয় তারকা স্পিনার ।

এরপর মোহাম্মদ হাফিজ কাটা পড়েন রানআউটে। অযথা রান নিতে গিয়ে এই পরিণতি তার। হাফিজকে রানআউটের ফাঁদে ফেলেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। বিদায়ের আগে ৭ বলে ৪ রান করেন হাফিজ।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা বেশ ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তবে দলীয় ৪৮ রানে একটি অপ্রয়োজনীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে বিদায় নেন সৌম্য (২০)। ওয়াহাব রিয়াজের বল তামিমের ব্যাট ও প্যাডে লেগে সামনেই ছিল। নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে কল করেন সৌম্য। কিন্তু ঠিক সময়ে ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। রান আউট দেন থার্ড আম্পায়ার।

এরপর দলীয় ৬৭ রানের মাথায় রাহাত আলীর বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৮ বল খেলে মাত্র ৫ রান করেছেন তিনি, যা তার নামের পাশে সত্যিই বেমানান।

এদিকে ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মুশফিকুর রহিম। তবে তার দৌড় শেষ হয়ে যেত ৩৫ রানেই। পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলীর বলে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিক। ভাগ্যদেবীর সহায়তায় বেঁচে যান তিনি। মুশফিকের তুলে দেওয়া সহজ ক্যাচটি মিস করে বসেন জুনায়েদ খান।

অপর প্রান্তে চলতে থাকে তামিম-শো। ১১১ বলে ১২ চার ও ২ চারের সাহায্যে সেঞ্চুরিটা আদায় করে নেন তিনি। এটি ওয়ানডেতে তার পঞ্চম শতরান। ২০১৩ মার্চের পর একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পান বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার।

সেঞ্চুরির পর তামিমের ব্যাট চলে সপাটে। বাংলাদেশের স্কোরশিটে দ্রুত গতিতে রান যোগ হতে থাকে। তবে ১৩২ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। ওয়াহাব রিয়াজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের তালুবন্দি হন তামিম। ১৩৫ বলে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় অনবদ্য ইনিংস সাজান দেশসেরা এই ওপেনার।

তামিমের পর সেঞ্চুরি আদায় করে নেন মুশফিকও। ৬৯ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় শতরান পূর্ণ করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। এটি ওয়ানডেতে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। তবে ইনিংসটা ১০৬ রানের বেশি লম্বা করতে পারলেন না মুশফিক। এই রান করতে তিনি খেলেছেন ৭৭ বল। শেষ পর্যন্ত ওয়াহাব রিয়াজের শিকার হন তিনি।

এরপর রিয়াজের শিকার হন সাব্বির ও সাকিব। ২৭ বলে ৪টি চারের মারে ৩১ রান করেন সাকিব। আর ৭ বলে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ রান করেন সাব্বির। নাসির ১ বলে ৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।

১০ ওভার বল করে ৫৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন পাকিস্তানের সেরা বোলার ওয়াহাব রিয়াজ। একটি উইকেট নিয়েছেন রাহাত আলী। ১০ ওভারে ৭৪ রান দিয়ে উইকেট-বঞ্চিত ছিলেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা সাঈদ আজমল।

মাশরাফির পরিবর্তে এ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে স্লো-ওভার রেটের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন মাশরাফি।

বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার আবুল হাসান। এই ম্যাচে রনি তালুকদারের অভিষেক হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তা হয়নি। একাদশে নেই মুমিনুল হকও।

পাকিস্তান দলে আজ দুজনের অভিষেক হয়েছে। দুজনই ব্যাটসম্যান। সাদ নাসিম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ স্পিন বোলিংও করে থাকেন সাদ নাসিম। এ ছাড়া রিজওয়ান উইকেট কিপিংও করেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ শেষ তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল মিরপুর স্টেডিয়ামে। শেষ তিন ওয়ানডেতের তিনটিতেই জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও জয় পায়নি বাংলাদেশ। প্রথমটিতে ২১ রানে, পরেরটিতে ২ রানে ও শেষ ওয়ানডেতে মাত্র ৩ উইকেটে জয় পায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের ঘাড়ে জয়ের নিঃশ্বাস ফেলেও জয়বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। এবার সেই ভাগ্য পাল্টাবে বাংলাদেশের? জয় পাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এমন প্রত্যাশায় ভক্তরাও।

বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানী ও আবুল হাসান রাজু।

পাকিস্তান দল: আজহার আলী, ফাওয়াদ আলম, হারিস সোহেল, জুনায়েদ খান, মোহাম্মদ হাফিজ, রাহাত আলী, সাঈদ আজমল, সারফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ, সাদ নাসিম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।

মতামত