টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে থানায় আটকে রেখে স্বামীকে জেলে প্রেরণ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Anika--Kamal-Photoচট্টগ্রাম, ১৭ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: মিরসরাইয়ে স্ত্রীকে থানায় আটকে রেখে স্বামীকে জেলে প্রেরণ করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করে প্রেমিক যুগল। নোটারী পাবলিকের মূলে এফিডেফিট করে আইনজীবীর মাধ্যমে জর্জ কোর্টে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তারা। যাহার এফিডেভিট রেজিস্টার নং ১৭৬, তাং ১৮-২-১৫ ইং। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের চিনকীরহাট এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে কামাল উদ্দিন ও তার মামাতো বোন জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী আনিকা আলম বিয়ে করেন। বিয়ের পর আনিকার মা কামরুন নাহার বাদি হয়ে কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তারা পালিয়ে চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর এলাকায় বসবাস শুরু করেন।গত ১৪ এপ্রিল কামাল উদ্দিনের বাড়িতে হানা দেয় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এসময় কামাল উদ্দিনের ভগ্নিপতি নুর ইসলামকে পিটিয়ে আহত করে এবং তার ঘর ভাংচুর করে।পরে নুর ইসলামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর ঈদগাঁ মাঠ এলাকা থেকে কামাল উদ্দিন ও আনিকা আলমকে আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। আটকের পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে থানায় আটকে রেখে স্বামীকে বৃহস্পতিবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

কামাল উদ্দিনের ভগ্নিপতি নুর ইসলাম অভিযোগ করেন, বুধবার ভোরে জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুল করিম বাড়িতে গিয়ে তাকে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করেন।পরে তার কাছ থেকে কামালের ঠিকানা নেয়। তিনি বলেন, কামাল প্রবাসে থাকা অবস্থায় আনিকা তাকে ফোন করে বাড়িতে এসে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। তাই কামাল দেশে ফিরে এসে আনিকাকে বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি আনিকার ধনী পিতা মেনে নিতে পারেননি। তার বাবা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাকে (আনিকা) থানায় আটকে রেখেছেন শুধু কামাল তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে এ বিষয়টি বলার জন্য। একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে থানায় এইভাবে আটকে রাখা যায় কি-না আমার জানা নেই।

জোরারগঞ্জ থানায় আনিকা আলম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কামালকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। কামাল তাকে অপহরণ করেননি। কামাল তার সম্পর্কে ফুফাতো ভাই হওয়ায় তার মা মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছেন। তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে স্বীকার করেন। আনিকার পিতা জাহাঙ্গীর আলম দাবী করেন, তার মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। কামাল তার মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে বিয়ে করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই ফজলুল করিম বলেন, আনিকা অন্তঃসত্ত্বা কি-না জানা নেই। তবে জেএসসির সাটিফিকেট দেখে বুঝা গেছে তার বয়স ১৮ পূর্ণ হয়নি। আনিকার মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তাই আমরা তাকে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। বাকি বিষয় আদালতেই ভালো বুঝবেন।

স্ত্রীকে আটকে রেখে স্বামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আনিক যেহেতু ভিকটিম তাই তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত