টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

চট্টগ্রাম, ১৭ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌর সদরের পান্থশালা এলাকায় বিয়ের দেড় বছরের মাথায় সুমি বড়ুয়া (২৫) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনা ঘটে।

তবে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় হত্যার বিষয়টি পুলিশ টের পায় শুক্রবার দুপুরে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি তদন্ত কামাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সতীশ মহাজন বাড়ির মৃত চন্দ্র শেখর বড়ুয়া মনুর পুত্র সিএনজি টেক্সি চালক শিপন বড়ুয়া মধু তার স্ত্রী সুমি বড়ুয়াকে (২৫) মারধর করে। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন প্রথমে সীতাকুণ্ড মর্ডান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে না রেখে সীতাকুণ্ড সরকারি হাসপাতালে রেফার করলে রাত ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিন্তু মধু মৃত স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সুমির পরিবারের কাছে ফোন করে খবর দেন সে শয়ন কক্ষের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে সুমির আত্মীয় স্বজন অবহিত করলে ওসি ইফতেখার হাসান সুমির লাশ যাতে সুমির মা বাবার অনুমতি ছাড়া সৎকার করা না হয় তার নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপর সুমির লাশের ময়না তদন্ত কালে সীতাকুণ্ড থানার এসআই জয়নাল আবেদিন ও এসআই রেহানা আক্তার লাশের গায়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিক লাল কালো আঘাতের দাগ দেখতে পান।

পরিদর্শক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘নিহত সুমির গলার দাগ দেখে ধারনা করছি তার স্বামী তাকে মারধর করতে গিয়ে এক পর্যায়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এর দায় সারাতে হয়তো সুমির স্বামী তাকে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে গেছে। লাশ পোসমর্টেম করার পর এটি হত্যাকা- বলেই ধারণা করা হচ্ছে।’

তবে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নিহতের শ্বাশুড়ী, দেবর ও ভাসুরের স্ত্রীগরা দাবি করেন, সুমিকে তারা কেউ হত্যা করেনি। সে নিজে নিজে গলায় নিজের কাপড় পেচিয়ে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেছে। পরে তাকে মৃত অবস্থায় তার স্বামী ও একজন কাঠ মিস্ত্রী ঘরের দরজা ভেঙে মৃত প্রায় অবস্থায় ঘর থেকে বের করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তাদের দাবি এমন হলেও পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঐ ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান। ঘরের কোন দরজা জানালা ভাঙা হয়নি। শ্বশুর বাড়ির লোকজন যা বলছে সব মিথ্যা ও বানোয়াট। রহস্যজনকভাবে পুলিশ বাড়ীতে পৌঁছার পরপরই নিহত সুমির স্বামী শিপন বড়ুয়া মধু ও তার ছোট ভাই বাড়ি ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে যায়।

নিহত গৃহবধূ সুমির মা হাটহাজারী উপজেলার জোবরা বড়ুয়া পাড়া নিবাসী রুপা বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েকে দেড় বছর পূর্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার পান্থশালা বড়ুয়া পাড়ার সতীশ মহাজন বাড়ির চন্দ্র শেখর বড়ুয়া মনুর পুত্র শিপন বড়ুয়া মধুর সাথে বিয়ে দিই। সে থেকে আমার মেয়েকে প্রায় সময় মারধর করত তার স্বামী। কিন্তু স্বামীর নির্যাতন মুখ ঝুঝে সহ্য করত আমার মেয়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ থেকে ৪ মাস আগে আমার মেয়ের গর্ভের বাচ্চা তার স্বামীর নির্যাতনের কারণে নষ্ট হয়। আমার মেয়ের পাষন্ড স্বামী তাকে শেষ পর্যন্ত গলা টিপে নর পশুর মত হত্যা করল। আমি আমার মেয়ে জামাতা শিপন বড়ুয়া মধুর ফাঁসি ও তার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কামনা করি।’

সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইফতেখার হাসান বলেন, ‘পোসমর্টেম রিপোর্টে যদি খুনের আলামত পাওয়া যায় তাহলে নিহতের পরিবারের লোকজন যদি খুনের মামলা করে তাহলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত