টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে খাল দখল নতুন ইস্যু

cccচট্টগ্রাম, ১৬ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  খাল আর নদী বেষ্টিত বন্দরনগরীর একটি ওয়ার্ডের নাম বকশিরহাট। উত্তরে কোরবানিগঞ্জ, চাক্তাই খাল ও রাজাখাল, দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী। পূর্বে রাজাখাল। পশ্চিমে পাথরঘাটা ও বদরপাতি। লোকসংখ্যা প্রায় একলাখ। এই ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৯৯ জন। বিগত ১৭ বছর ধরে এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। বরং খাল-নালা দখল এবং ভরাট করে জলাবদ্ধতা ও যানজটসহ নতুন করে নানা সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলরসহ চারজন প্রার্থী রয়েছেন।

সরজমিন দেখা গেছে, লালদিঘির পার হতে শুরু হয়ে বদরখালটি চাক্তাইখালে গিয়ে পড়েছে। সেই খালটিও ৯০ শতাংশ বেদখল হয়ে গেছে। উত্তর ও মধ্যম বদরখাল এখন নিশ্চিহ্ন। খালের উপর নির্মিত হয়েছে ভবন। সিটি করপোরেশনও খালের উপর একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে। রাজাখালী খালের পাড় দিয়ে গত কাউন্সিলরের আমলে যে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের সঙ্গে সংযোগ হতে অন্তত আরও ৩০০ ফুট কাজ করতে হবে। গত পাঁচ বছরে সে কাজটুকু করা হয়নি।

জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ জামাল হোসেন বলেন, চাক্তাই খালের মোহনা হতে হামিদ উল্লাহ বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা হতে গত পাঁচ বছরে এক ট্রাক মাটিও তোলা হয়নি। চাক্তাই খালের মুখটি এখন শহরের অন্যান্য এলাকা থেকে অনেক উঁচু। নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির এটি অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এক সময় দেশের সাত কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করত। এখন ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। গত পাঁচ বছরে সরকার চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করলেও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের এতটুকু উন্নতি হয়নি।

এখানে ব্যবসা বাড়লেও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নেই। এজন্য প্রয়োজন বহুতল কার পার্কিং ব্যবস্থা। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে এখানকার ব্যবসায়ীদের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া যানজটের কারণে বাইরে থেকে সিএনজি ট্যাক্সি, রিকশাচালক ভাড়া সেখানে যেতে চায় না। বৃহৎ এই পাইকারি বাজারে নেই কোন ট্রাক টার্মিনাল। ব্যবসায়ীদের দাবি, কর্ণফুলী সেতুর পাশে যে বিশাল পরিমাণ খাস জমি রয়েছে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে একটি ট্রাক টার্মিনাল করলে এখানকার যানজট কিছুটা লাঘব হতো। কর্ণফুলী ড্রেজিং এবং চাক্তাই খালকে অবৈধ দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করে নৌপরিবহন যোগাযোগ আবারও চালু করা উচিত। এতে সড়কপথে চাপ কমার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও অনেক কমে যাবে। সরব হবে মৃতপ্রায় ঐতিহ্যবাহী হামিদ উল্লাহ বাজার। এ ছাড়া সাবেক কাউন্সিলর জামাল হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে দানকৃত জায়গায় স্থাপিত একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল হকের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার পিতা অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য আবারও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকায় জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই সমস্যা নিরসনে এবার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলে, তার পিতা নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সমর্থন পেয়েছেন। এবার নুরুল হক পেয়েছেন ঘুড়ি প্রতীক। জসিম উদ্দিন নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানাসহ নানা সামাজিক উন্নয়নখাতে কাজ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন, মাদক নির্মূল, হাসপাতাল নির্মাণসহ সামাজিক উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবেন। তার প্রতীক মিষ্টি কুমড়া।

কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ চৌধুরী বাহাদুর জানান, গতবারও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম না জিতলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে থাকব। কথা রেখেছি। গত পাঁচ বছর সবার সুখে-দুঃখে ছিলাম। এলাকার ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন কাজ করেছি। অনেক বেকারকে স্বাবলম্বী করেছি। তাই এবার রায় তার পক্ষে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এবারের নির্বাচনে তার প্রতীক ঠেলাগাড়ি। শেখ আহমদুর রহমান চৌধুরী জানান, তিনি ২০ দলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছেন। তার প্রতীক লাটিম। এবারের নির্বাচনে তার প্রতিশ্রুতি ওয়ার্ডবাসীকে দ্রুত জলাবদ্ধতামুক্ত করা। এ ছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদককে এলাকা থেকে চিরতরে দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় শ্মশান এবং কবরস্থান নেই। এই দুইটি অভাব তিনি পূরণ করবেন।-মানব জমিন

মতামত