টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে আইডিয়াল মাল্টিপারপাসের কর্মকর্তারা উধাও

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৬ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: মিরসরাইয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কোটি টাকা নিয়ে কার্যালয় বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছে সমবায় অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত আইডিয়াল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আমানতকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারে বাংলাদেশ সরকারের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে আইডিয়াল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড নাম নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে সাইদুর রহমান চৌধুরী ও মহিবুর রহমান চৌধুরী মিলন। এরপর তারা বাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকে মাসিক সঞ্চয় হিসেবে ১০০ থেকে ১ হাজার টাকার সঞ্চয় বই চালু করে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা উত্তোলন করা হতো। প্রতিষ্ঠানটির কমকর্তারা এত বছর কার্যক্রম চালালেও সম্প্রতি তাদের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এতে ব্যবসায়ী ও খুচরা আমানতকারীদের মনে সন্দেহ জাগে। তারা যোগাযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তাদের সঙ্গে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষক মহিবুর রহমান চৌধুরী মিলন অসুস্থতার অজুহাতে বাড়ীতে বসে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান। এতে আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত চাইলে বিভিন্ন ছলচাতুরির আশ্রয় নেন মিলন। এ সময় তারা তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রসার বডুয়াকে বিষয়টি জানালে তিনিও কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এদিকে ওই সংস্থার অপর দুই ব্যক্তির কাছে আমানতকারীরা ছুটে গেলে তারা জানান, সব টাকা হিসাবরক্ষক মিলনের কাছে।
এদিকে আমানতকারীরা তাদের টাকা না পেয়ে ছুটে যান মিলনের ভাই এবং স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ চৌধুরীর কাছে। এ সময় তিনি আমানতকারীদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন এবং এতে তার পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। আমি তাদের অপারগতা জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

এ বিষয়ে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রসার কান্তি বডুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর কয়েকদফা চেষ্টা চালিয়েছি কিন্তু সে (মিলন) হঠাৎ করে উধাও হওয়ায় কিছু করতে পারিনি। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত মহিবুর রহমান চৌধুরী মিলনের মুঠোফোনে কল করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মতামত