টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চসিক নির্বাচন: চার থানার সব ভোটকেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

votচট্টগ্রাম, ২৭ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭১৯টির মধ্যে ৫৯৫টি ভোটকেন্দ্রেকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে নগরীর চারটি থানা এলাকার সব ভোটকেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। থানাগুলো হচ্ছে, কোতয়ালি, বায়েজিদ বোস্তামি, চকবাজার এবং আকবর শাহ। এমন তথ্য নিয়েই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। 

এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ দেয়ার পাশাপাশি বাইরে সার্বক্ষণিক ফোর্স মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএমপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ। এগুলো হচ্ছে, অতীতে কোন সংঘাত-দখল কিংবা ব্যালটবাক্স ছিনতাই হয়েছে কিনা, কেন্দ্র প্রার্থীর বাড়ির আশেপাশে কিনা এবং ভোটকেন্দ্রের উপর প্রার্থীদের প্রভাব কেমন। তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘সাধারণ’ এ দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোকেই নগর পুলিশ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ৭০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে নগর পুলিশ ৫৯১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর জেলা পুলিশ ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল  বলেন, ৭১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে আমরা ৫৯৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ মানেই যে সংঘাতের আশংকা আছে তা নয়। এরপরও আমরা অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দেব। প্রত্যেক কেন্দ্রে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার স্ট্যান্ডবাই রাখব।

কোতয়ালি থানা এলাকায় মোট ৮৪টি ভোটকেন্দ্র আছে। বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় ৬১টি এবং আকবর শাহ থানা এলাকায় ২৭টি ভোটকেন্দ্র আছে। এ তিন থানার সব ভোটকেন্দ্রকেই পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে।

পুলিশ সূত্রমতে, কোতয়ালি থানা এলাকায় একজন মেয়র প্রার্থীর পৈতৃক নিবাস। তার বাড়ির সামনেই একটি ভোটকেন্দ্র আছে। তার মূল নির্বাচনী ক্যাম্পও কোতয়ালি থানায়। কোতয়ালি থানার আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, রাজাপুকুর লেইন, রহমতগঞ্জ, দেওয়ানজী পুকুর পাড়, জামালখান, বদরপাতিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তরুণ-যুবকদের মধ্যে তার প্রভাব আছে।

এ কারণে এসব এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত ভাবতে পারছেনা পুলিশ।

এছাড়া ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে ঘিরে বায়েজিদ ও আকবর শাহ থানা এলাকায় ওই মেয়র প্রার্থীর বেশ প্রভাব আছে। সম্প্রতি শেরশাহ এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। স্বাভাবিক সময়েও এ দু’টি এলাকায় প্রায়ই রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ দু’টি থানা এলাকায়ও নির্বাচনের দিন সংঘাত হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

এছাড়া জামায়াত অধ্যুষিত নগরীর চকবাজার থানা এলাকার ২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলোকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

সিএমপি’র দক্ষিণ জোনে চার থানার মধ্যে বাকলিয়া থানার ৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি, সদরঘাট থানার ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বাকি দু’টি থানা হচ্ছে কোতয়ালি ও চকবাজার।

উত্তর জোনে চার থানার মধ্যে পাঁচলাইশ থানার ৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি, খুলশী থানার ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি, চান্দগাঁও থানার ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে পুলিশ। বাকি একটি থানা হচ্ছে বায়েজিদ বোস্তামি।

পশ্চিম জোনে চারটি থানার মধ্যে ডবলমুরিং থানায় ৫৮টির মধ্যে ৫৫টি, হালিশহর থানায় ৪৬টির মধ্যে ৩৮টি, পাহাড়তলী থানায় ৩৮টির মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করছে পুলিশ। বাকি একটি থানা হচ্ছে আকবর শাহ থানা।

বন্দর জোনে চারটি থানার মধ্যে বন্দর থানায় ৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি, ইপিজেড থানায় ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি এবং পতেঙ্গা থানায় ২৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে পুলিশ। বাকি একটি থানা কর্ণফুলী সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয়।

এছাড়া জেলা পুলিশের অধীনে হাটহাজারী থানার ১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল জানালেন, সব ভোটকেন্দ্রেই চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ ও সশস্ত্র আনসার মিলিয়ে ১০ জন করে বাড়তি ফোর্স দেয়া হবে। চার স্তরের মধ্যে প্রথম স্তরে প্রত্যেক কেন্দ্রে থাকবে পুলিশের একজন এস আই, একজন এ এস আইসহ কমপক্ষে ১০ জন পুলিশ।দ্বিতীয় স্তরে থাকবে ৮ জন সশস্ত্র ও লাঠিধারী ৭ জন আনসার সদস্য।

তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ঘিরে থাকবে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের দু’টি আলাদা টিম। এদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক পুলিশ ফোর্সও মোতায়েন থাকবে।আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ক্ষেত্রে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা এলাকাজুড়ে টহল দেবে। সার্বক্ষণিক পুলিশ ফোর্স থাকবেনা।

তফসিল অনুযায়ী ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত