টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্বাগত নববর্ষ- পয়লা বৈশাখ

boishakh-3চট্টগ্রাম, ১৪  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। এসো, এসো, এসো, হে বৈশাখ।’ স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২২। 

নতুন স্বপ্ন, উদ্যম ও প্রত্যাশার আলোয় রাঙানো নতুন বাংলা বছর শুরু মঙ্গলবার। সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে-মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি করে তুলতেই আবার এসেছে পয়লা বৈশাখ।

বর্ষবরণের উৎসবের আমেজে মুখরিত থাকবে বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের অগ্নিজিহবাও কাল হয়তো বাতাসে লকলক করে নেচে উঠবে। অগ্নিবরণ নাগনাগিনীপুঞ্জও তাদের সঞ্চিত বিষ উগড়ে দিবে বাংলার ভূ-প্রকৃতিতে। তারপরও বাঙালি এই খরতাপ উপেক্ষা করে মিলিত হবে তার সর্বজনীন এ উৎসবে।

দেশের প্রতিটি পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহবলতা। কারণ কাল বাঙালির আনন্দের দিন, পয়লা বৈশাখ।

নববর্ষের প্রথম দিনে বদলে যাবে বন্দর নগরী। পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে পুরো নগরী সেজেছে বর্ণিল সাজে। সৃষ্টি হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ। নেয়া হয়েছে সব প্রস্তুতি।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর সিআরবিতে শিরিষ তলায় ‘নববর্ষ উদযাপন পরিষদের’ আয়োজনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে সাতটায়। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগদানকারীরা সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বাঙালীর প্রাণের গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো হে’ গেয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করবেন।

বেহালার সুরে শুরু হওয়া সিআরবির অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে উদীচী, বোধন ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের। সকাল সাড়ে ৮টায় শিরিষ তলায় পাকা মঞ্চ ও পাহাড়ের গায়ে গ্যালারির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী।

গত ৭বছর ধরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিআরবি শিরিষ তলায় সবচেয়ে বড় আয়োজনটি করে আসছে নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম। ‘অগ্নি স্নানে সূচি হোক ধরা’ শীর্ষক এই আয়োজনটিতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। যেখানে ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিনের নামে বলীখেলারও আয়োজন থাকে।

সকাল ৯টায় নগরীর চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে ‘জাগো বাঙালী নব রূপে নব আনন্দে জাগো’ স্লোগানে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। চট্টগ্রাম চারুকলা ইনইস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এখানকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের শোভাযাত্রায় থাকছে হাতি-ঘোড়া-বাঘের প্রতিকৃতি। গত কয়েকদিন ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত ছিলেন ফুল-পাখি আর মুখোশের প্রতিকৃতি তৈরির কাজে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল সাড়ে ৮টায় হবে বর্ষবরণ র‌্যালি। সকালে জারুল তলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে থাকবে নাটক, গান ও নানান সাংস্কৃতিক আয়োজন। দুপুরে মুক্তমঞ্চে বলি খেলা এবং বুদ্ধিজীবী চত্বরে কাবাডি, পুতুল নাচ ও বৌ চি খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীও বিগত ৬ বছর ধরে বৈশাখী উৎসব করে আসছে সফলতার সাথে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর সার্কিট হাউজ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে যাবে শিল্পকলায়। শিল্পকলায় নতুন বছরের শুরুর দিনে পান্তা-ইলিশের আপ্যায়নের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন, থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া দুপুর দুইটায় কারাগার, হাসপাতাল ও এতিমখানায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হবে।

নগরীর ডিসি হিলে বর্ষ বরণের আয়োজন করেছে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ’। নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দুই দিনের আয়োজন করেছে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ও বর্ষবরণ পরিষদ’।

মঙ্গলবার বিকেলে বাওয়া স্কুল প্রাঙ্গণে ‘বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণ সম্মিলন পরিষদ’র আয়োজন শুরু হবে । রবীন্দ্র-নজরুল-ডিএল রায়, অতুল প্রসাদ এবং লালন ও বাউল গানে সাজানো হয়েছে আয়োজনটি।

পহেলা বৈশাখের নগরীর এসব অনুষ্ঠানে কাবাডি,ষাড়ের লড়াই , মোরগ যুদ্ধ, পুতুল নাচ, সাপের খেলা, ঘুড়ি উৎসব, উপজাতীয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

এদিকে প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে এখনও হালখাতার প্রচলন রয়েছে। পহেলা বৈশাখের দিন এই হালখাতাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি দোকান-মোকামে মিষ্টি বিতরণ হয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আনন্দ-উন্মাদনার কোন কমতি থাকে না এ এলাকায়।

অন্যদিকে গত কয়েকদিন নগরী ও সংলগ্ন এলাকার বিপণীবিতান গুলোতে বৈশাখী পোশাক কিনতে কিশোর-কিশোরী এবং যুবক -যুবতীদের ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

পহেলা বৈশাখে নগরীর হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। পান্তা-ইলিশ ছাড়াও রয়েছে নানান দেশিয় খাবার। হোটেল রেডিসন ব্লুতে থাকছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুরু হওয়া বুফেতে জনপ্রতি খরচ হবে ২ হাজার ৪৫০ টাকা।

গ্রামীণ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে দি পেনিনসুলা চিটাগং। থাকছে বিভিন্ন আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী দেশিয় মিষ্টি দিয়ে অথিতিদের বরণ করে নেবে হোটেলটি। ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে থাকছে বুফে আয়োজন। আরও থাকছে মজাদার চটপটি, ফুচকা ও মুখরোচক আম ভর্তা। এছাড়া পান্তা-ইলিশ তো থাকছেই।

বৈশাখ উপলক্ষে হোটেল আগ্রাবাদকে সাজানো হয়েছে বৈশাখী সাজে। পান্তা ও সর্ষে ইলিশের পাশাপাশি থাকবে দেশিয় ৭০-৮০ পদের বৈশাখী বুফে। এছাড়া বাচ্ছাদের জন্য গেইম জোন তৈরি করা হয়েছে।

দিনব্যাপি নানান আয়োজনে মুখরিত থাকবে ওয়েল পার্ক রেসিডেন্স। বৈশাখ উপলক্ষে হোটেলের আয়োজনে থাকছে পান্তা-ইলিশসহ ১০০টি পদের বাঙালি খাদ্যের সমাহারে বৈশাখী ব্যুফে মেনু। জনপ্রিয় শিল্পীরা বাউল সাজে হাজির হবেন রেস্টুরেন্টের হলরুমে। মাতিয়ে তুলবেন দেশিয় লোকজ সংগীতের মূর্ছনায়।

এদিকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নগরী ও সংলগ্ন যেসব জায়গায় বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে সে সকল স্থানে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়া বর্ষবরণ উৎসব শেষে এবারের পয়লা বৈশাখে বিকেল পাঁচটার মধ্যে পতেঙ্গা ও আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত, ফয়’স লেক, ডিসি হিল, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক, কাজীর দেউরী শিশুপার্কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ত্যাগ করার অনুরোধ করেছে নগর পুলিশ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত