টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবাধে চলছে ভটভটি-নসিমন

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Nosimon-Photoচট্টগ্রাম, ১৩  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অঞ্চলে অবাধে চলাচল করছে প্রায় দুই শতাধিক নছিমন-করিমন। মহাসড়কগুলোতে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা বাস্তবে প্রতিফলন হচ্ছেনা। অবাধে মহাসড়কে নছিমন চলাচল করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোন নছিমন করিমন আটক করতে পারেনি।

সূত্র জানায়, মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় দুই শতাধিক অননুমোদিত নছিমন-করিমন চলাচল করে। আঞ্চলিক সড়কগুলোর মধ্যে বারইয়াহাট-রামগড় সড়ক, বারইয়াহাট-শান্তিরহাট সড়ক, মিঠাছড়া-বামনসুন্দর দারোগাহাট সড়ক, জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়ক, জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়ক, নিজামপুর-ভোরেরবাজার সড়ক, বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়ক, বড়দারোগাহাট-কমরআলী সড়কে এসব গাড়িগুলো বেশি চলাচল করে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এসব নছিমন-করিমন। এসব গাড়ির বিআরটিসি থেকে কোন অনুমোদন নেই।

অভিযোগ রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ মাঝে-মধ্যে অভিযান চালিয়ে ভটভটি-নসিমন আটক করলেও টাকার বিনিময়ে আবার ছেড়ে দেয়। মিরসরাই সদর এবং বারইয়ারহাট ভটভটি ষ্ট্যান্ডের একাধিক চালক বলেন, আমরা পুলিশকে টাকা দিয়ে গাড়ি চালাই। টাকা না দিলে পুলিশ মামলা ঠুকে দেয়। প্রতি ভটভটি প্রতি মাসে ২শ থেকে ৪শ টাকা দেয়া হয় বলে জানান তারা। তবে টাকা নিয়ে ভটভটি ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন হাইওয়ে পুলিশ।

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জানান, মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এবং সুষ্ঠু যান চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে উলে¬খ করা হয়েছে, বেপরোয়া গাড়ির চালককে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হবে। ধীরগতির যানবাহনগুলোকে শুধু সংযোগ সড়কেই চলতে দেওয়া হবে। মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটি, চলাচল করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন অবৈধ এসব গাড়িগুলো চলাচল করে আসছিল। একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাড়ির গ্যারেজ খুলে এসব গাড়ি তৈরি করছে। নছিমন-করিমন-ভটভটিগুলো চলার কথা সংযোগ সড়কে। কিন্তু এ যানবাহনগুলো অবাধে মহাসড়কে চলছে। দ্রুতগতিসম্পন্ন গাড়ির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ধীরগতির ডকুমেন্টবিহীন, লক্করঝক্কর এসব গাড়ি মহাসড়কে চলার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মস্তাননগর এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সা সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে নছিমনের চালক সাইফুল ইসলাম নিহত ও পাঁচ অটোরিক্সা যাত্রী গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে, মিরসরাই উপজেলাজুড়ে কি পরিমাণ নছিমন-করিমন চলাচল করছে এর সংখ্যা জানাতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফরিদুল আলম এ তথ্যটি থানায় সংরক্ষিত বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ এমকে ভূঁইয়া জানান, এটি হাইওয়ে পুলিশের বিষয়। থানায় এ সম্পর্র্কীয় কোন তথ্য নেই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত