টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে নোমান-খসরুর সংশয়

cccচট্টগ্রাম, ১২  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার মেহেদীবাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

শনিবার বিকেলে নগরের বায়েজিদ থানাধীন জালালাবাদ ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকায় সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ওয়ার্ড নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এ সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, নগর বিএনপির সহসভাপতি শামসুল আলম ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমানসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলে আসছি নির্বাচনী মাঠ আমাদের জন্য সমান করা হয়নি। একটি প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে আমরা নির্বাচন করছি। যারা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের অস্ত্র আছে। এমন অবস্থায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে আমাদের অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

নোমান আরো বলেন, ‘এখানে কেবল ভোটের জন্য মারামারি নয়। জীবন কেড়ে নেওয়ারও একটা আশঙ্কা আছে। কারণ সরকার সমর্থকদের হাতে এখন অস্ত্র দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় মৃত্যুকে সামনে রেখে ভোটের জন্য এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন এবং সেটিই ছাত্রলীগ শনিবার বিকেলে করেছে। আমরা মনে করি, যদি নির্বাচন করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো বিকল্প নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও সরকার সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলা চলতে থাকলে আমরা ঠিকভাবে গণসংযোগ করতে পারব না। তাই সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করতে ভোট গ্রহণের সাত দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

কারণ হিসেবে বলা হয়, ‘শনিবার বিকেলে বায়েজিদ থানাধীন বাংলাবাজার এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করতে গিয়ে আমাদের জ্যেষ্ঠ নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। সেনা টহল থাকলে সন্ত্রাসীরা সাহস পেত না।’

খসরুর অভিযোগ, ‘শনিবার বিকেলে ছাত্রলীগ আমাদের নারী কর্মীদেরও ওপরও চড়াও হয়। নির্বাচনী কার্যালয় তছনছ এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পর শনিবার রাতে এবং রবিবার সকালে বায়েজিদ থানায় মামলা দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা। পুলিশ রোববার দুপুর পর্যন্ত আমাদের মামলা নেয়নি। এতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আরো উৎসাহ পাচ্ছে। তাই আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কিত।’

আমীর খসরু অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার সমর্থকেরা পেশি শক্তি ব্যবহার করে ফলাফল অনুকূলে নিতে চায়। তাই নগরবাসী কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে। এতে আমরাও উদ্বিগ্ন। কারণ, বিগত ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার যেভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে, সিটি নির্বাচনেও সেভাবে প্রভাব খাঁটিয়ে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে চায়। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সবের প্রতিকার করতে না পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে না।’

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মন্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশন যতই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলুক-তাতে আমরা আস্থা পাচ্ছি না।

এ দিকে শনিবারের ঘটনায় রবিবার বিকেলে বায়োজিদ থানায় একটি মামলা করেন বিএনপি কর্মী মনির হোসেন। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী শামসুল ইসলাম বাদলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৬০ / ৭০ জন বলে জানা গেছে।

এর আগে রবিবার সকাল এবং আগের দিন শনিবার রাতে বায়েজিদ থানায় গিয়ে বিএনপির কর্মী মামলা করতে পারেনি বলেনি আমীর খসরু অভিযোগ করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত