টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রশাসন নীরব, মিরসরাইয়ে ফসলী জমির প্রাণ যাচ্ছে ইটভাটায়

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Top-Soil-Picচট্টগ্রাম, ১১  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::মিরসরাইয়েরফসলী জমির প্রাণ (জমির উপরিভাগ) ব্যবহার হচ্ছে ইটভাটায়। জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে কৃষি জমির প্রাণ টপসয়েল সুকৌশলে কেটে ফেলা হচ্ছে। উপজেলায় মোট ১৩টি ইটভাটা রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে গড়ে উঠা অধিকাংশ ফিল্ডে ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি আর কাঠ। টপসয়েল কেটে ফেলার ফলে হুমকীর মুখে উপজেলার কৃষি উৎপাদন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ইটভাটাগুলোতে বনের কাঠ পোড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলী জমির টপ সয়েল। কৃষি জমি থেকে টপ সয়েল নিয়ে যাওয়ার ফলে উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলী জমিগুলো। অধিকাংশ সময় ইটভাটা মালিকদের প্রলোভনে পড়ে জমির মালিকরা বাধ্য হন মাটি বিক্রি করতে। আর একজন জমির মাটি বিক্রি করলে পাশ্ববর্তি জমির মালিককেও বাধ্য হতে হয়ে মাটি বিক্রির জন্য। কেননা জমি উঁচু নিচু হয়ে গেলে সেচের পানি ঠিকমত থাকে না জমিতে। এছাড়াও জমিতে কোন শষ্য বা ধান চাষ করার সময় ওই মৌসুমে যে পরিমাণ কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় তা ওই মৌসুমে পুরোটা ব্যবহার হয় না কিছু অংশ থেকে যায়। টপসয়েল বিক্রি করে দেওয়ার ফলে ওই উর্বর অংশটুকু চলে যায় ইটভাটায়। ফলে পরবর্তী বছর নতুন করে চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে দ্বিগুন খরচ হয় কৃষকের। উপজেলার প্রায় সবগুলো ইটভাটা পাহাড়ের পাশে স্থাপন করার প্রধান কারণ হচ্ছে মহাসড়ক থেকে দূরে হলে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে গাছ পুড়ানো ও পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা যায় সহজে। উপজেলাতে সবচেয়ে বেশী টপসয়েল বিক্রী হয় রায়পুর এলাকা থেকে। সম্প্রতি উপজেলার রায়পুর এলাকায় সরজমিন গিয়ে দেখা যায় টপসয়েল বিক্রি করার ফলে একটি জমি থেকে অন্য জমি প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট উঁচুনিচু হয়ে গেছে। ফলে চাষাবাদের সময় উপরের জমিতে পানি না থাকলেও নীচের জমিতে পানি জমে পচে সবজী সহ সকল ধরনের রোপনকৃত গাছ মারা যাচ্ছে। এসময় মাটি কাটার শ্রমিকদের মাটি কাটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা ঠিকাদরের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে পাশ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে মাটি যাচ্ছে বলে তারা জানায়। এদিকে প্রতিদিন হাজার হাজার একর কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো।

ইটভাটাতে মাটি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সময় ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। ঠিকাদাররা ইটভাটাতে প্রতি পিকআপ মাটি ৭’শ থেক ৮’শ টাকা ধরে দেন। জমি থেকে ইটভাটার দুরুত্ব বেশী হলে দাম বাড়ে। আর জমির মালিককে প্রতি পিকআপ মাটির জন্য দেন ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

মিরসরাই উপজেলা ব্রিক ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি আজহারুক চৌধুরী নওশা মিয়া বলেন, উপজেলার ১৩টি ব্রিক ফিল্ড রয়েছে। ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরীর প্রধান উপকরণ হলো মাটি। কৃষি জমির মাটি ছাড়া অন্য মাটিতে ইট তৈরী ভালো হয় না। তাই বিকল্প কিছু বের না হওয়া পর্যন্ত এটাই প্রধান মাধ্যম।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ইটভাটাতে কৃষি জমির টপসয়েল ব্যবহার করার ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। টপসয়েল জমি থেকে তুলে নেওয়ার ফলে জমি আদ্রতা হারিয়ে ফেলে। ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা শাহ আলম বলেন, টপ সয়েল হচ্ছে জমির প্রাণ। ইটভাটার জন্য টপ সয়েল নিয়ে যাওয়ার ফলে উর্বরতা হরাচ্ছে কৃষি জমিগুলো। ফলে ফসলের ফলন ভাল হচ্ছে না। অধিকাংশ কৃষি জমির মালিক জমি চাষ করেন না। জমি বর্গা দিয়ে চাষ করান। ফলে কৃষকের অনিচ্ছাশর্তেও জমির মালিকরা ইটভাটার মালিকদের প্রলোভনে পড়ে বাধ্য হয়ে কৃষি জমির মাটি বিক্রি করে দেন। শুষ্ক মৌসুমে টপ সয়েল কাটার পরিমাণ বেড়ে যায়। টপ সয়েল বিক্রির ফলে হুমকীর মুখে উপজেলার কৃষি উৎপাদন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহী অলি বলেন, ইটভাটাগুলোতে পাহাড় কিংবা ফসলী জমির টপ সয়েল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। টপসয়েল কাটার বিষয়ে সঠিক তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত