টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কামারুজ্জামানের সঙ্গে পরিবারের শেষ সাক্ষাত বিকালে

105942_1চট্টগ্রাম, ১১  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে বিকাল চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে পরিবারকে সাক্ষাত করতে বলেছে কারা কর্তৃপক্ষ। আসামী পক্ষের আইনজীবি শিশির মনির এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে কামারুজ্জামানের ফাঁসি আজ কার্যকর করা হবে বলে গতকাল রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল দিনভর গুঞ্জন ছিল কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাত বাড়তে থাকলে আচমকা সকল প্রস্ততি থেমে যায়।

এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, কামারুজ্জামানকে আর সময় দেয়া হচ্ছে না। এর পরপরই ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। সেখানে যান পুলিশ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরাও। ফাঁসির মঞ্চের উপরে দেয়ার জন্য নেয়া হয় সামিয়ানা সামগ্রি, কর্মকর্তাদের বসার জন্য নেয়া হয় চেয়ার। গণমাধ্যমে প্রচার হয় রাতেই দেয়া হচ্ছে কামারুজ্জামানের ফাঁসি।

কারাগার এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কারাফটকে ভিড় জমায় উৎসুক মানুষ। কিন্তু রাত সাড়ে নয়টার পর আচমকা দৃশ্যপটে পরিবর্তন। কারাগার থেকে একে একে বের হয়ে যান কারা ও পুলিশ কর্মকর্তারা। কারাগার এলাকার নিরাপত্তা শিথিল করা হয়। রাতে ফাঁসি হচ্ছে না এ বার্তা আসে ভেতর থেকে। উৎসুক গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগ করেন কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি কারও কাছে। রাত ১০টার পর নিশ্চিত হয়ে যায় ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না রাতে।

প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় সিদ্ধান্ত হয়, রাতে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হবে না।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী রাত ৯টা ৪৯ মিনিটে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কারা কর্তৃপক্ষ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। তবে ফাঁসি কার্যকরের জন্য সিদ্ধান্ত আমাদের না। সিদ্ধান্ত পেলেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানী ঢাকার পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়- শুক্রবার রাত অথবা ভোরের দিকে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হতে পারে। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়।

এ নির্দেশনা পাওয়ার পরই পাল্টে যায় রাজধানী ঢাকার চিত্র। অলিগলিসহ বিভিন্ন সড়কের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারাগার এলাকাসহ রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

লালবাগ এলাকার ডিসি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দীন আহমেদ রাত পৌনে ৮টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, আমরা কারাগারের জন্য রাতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।

এমনকি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা কারাগারের ভেতরে প্রবেশও করেন। ঢাকা জেলার সহকারী সিভিল সার্জন আহসান হাবিব শুক্রবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ৯টার দিকে কারাগার থেকে বের হন।

পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে সরকারের কোনো এক সঙ্কেতের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করা হয় এবং পুলিশ কর্মকর্তারা বাসায় ফিরতে শুরু করেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী রাত ৯টা ২২ মিনিটে কারাগার ত্যাগ করেন।

এদিকে আদালতের দেওয়া কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য শনিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ছুটির দিনেও কারা শাখার কর্মকর্তাসহ পদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ অপু গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে একটি বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

মতামত