টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ৩৪ ওয়ার্ডে আ.লীগের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী

cccচট্টগ্রাম, ১১  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::প্রতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে গেছে। দুই সাংসদ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের তৎপরতার পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র সাতটিতে একক প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩৪টি ওয়ার্ডে দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে সাবের আহমেদ, ১৩ নম্বর পাহাড়তলীতে মোহাম্মদ হোসেন, ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ীতে গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, ৩১ নম্বর আলকরণে তারেক সোলায়মান সেলিম, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লায় জহর লাল হাজারী, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহরে গোলাম মো. চৌধুরী ও ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গায় ছালেহ আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একক প্রার্থী।

দলীয় সূত্র জানায়, ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম চেম্বার ভবনে প্রতি ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণ করতে বৈঠক হয়। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক, চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ এম এ লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আলাউদ্দিন নাসিম উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চট্টগ্রাম-১১ আসনের অধীনে ১০টি ওয়ার্ডের ৩৫ প্রার্থীর সই জোর করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দিতে মহানগর আওয়ামী লীগ প্রথম দিক থেকে উদ্যোগী ছিল। নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু চেম্বার ভবনে জবরদস্তি করে যারা ৩৫ প্রার্থীর সই নিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মহানগর কমিটির সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, চেম্বার ভবনে প্রার্থীদের কাছ থেকে জবরদস্তি করে সই নেওয়া অশোভন ছিল। যে দুজন সাংসদ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত তারা আওয়ামী লীগের প্রতীকী নেতা। তৃণমূলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছেন।

তবে খোরশেদ আলমের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে সাংসদ এম এ লতিফ বলেন, ‘একক প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সম্পৃক্ত। উনি (খোরশেদ আলম) বোকার মতো মন্তব্য করেছেন। উনাদের চেয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা কি কম বোঝেন?’

চেম্বার ভবনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন বলেছেন, এ ঘটনা নির্বাচনে প্রভাব ফেরবে। যার রেশ টানতে হতে পারে মেয়র প্রার্থীকেও।

৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বারেক বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলীয় নেতারা যদিও আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। এটা সংগঠনের কাঠামো ও মেয়র প্রার্থীর ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।’

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত গত সিটি নির্বাচনে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়েছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাসান মুরাদ (৭১৪৬ ভোট)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্রোহী প্রার্থী এনামুল হক (৪০৭৮)। আর তৃতীয় হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হোসেন মুরাদ (৩৫২২ ভোট)। হাসান ও হোসেন দুই ভাই। এবারের নির্বাচনে হোসেন মাঠে নেই। হাসানের প্রতিদ্বন্দ্বী এনামুল। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে তিনজন। তাদের একজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান। আরেক প্রার্থী মো. ইবনে ফারুকও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী এনামুল হক বলেন, ‘সাংসদ লতিফ জবরদস্তি শুরু করেছেন। তিনি পছন্দের ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। তার সমর্থন মানে কি মহানগর আওয়ামী লীগের সমর্থন? আমরা মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত চাই। সাংসদ কেন মাথা ঘামাবেন?’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত