টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যেভাবে ফাঁসি কার্যকর হবে

kamaruzzaman fashiচট্টগ্রাম, ০৯ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মূল ফাঁসির মঞ্চে লাগে ১৭ মিনিট। মূল ফাঁসির মঞ্চের সঙ্গে আছে তিনটি কনডেম সেল। ফাঁসি দেওয়ার আগে এই কনডেম সেলেই রাখা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে। কনডেম সেল থেকে জল্লাদরা দণ্ডিতকে হাঁটিয়ে নেন মূল ফাঁসির মঞ্চে। জেল সুপার ফরমান আলি জানান, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এখন ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া কনডেম সেলেই আছেন।’ এই কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চের দূরত্ব ৫০ গজেরও কম।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সর্বশেষ ফাঁসি দেওয়া হয় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর। তখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আরেক জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

দড়িতে ঝুলিয়ে সেই ফাঁসি কার্যকর করার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও কারা সূত্রে জানা গেছে ফাঁসি কার্যকর করার পদ্ধতি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্ব-পশ্চিম কোণার দিকে ফাঁসির মূল মঞ্চ। এর দৈর্ঘ্য ৮ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ৪ ফুট। ভূমি খেকে উঁচুতে এই মঞ্চে পাশাপাশি দু’জন দণ্ডপ্রাপ্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যবস্থা রয়েছে। মঞ্চের উপরে যে ফাঁসির কাষ্ঠ (মেটালিক) তার উচ্চতা ৮ ফুট। আর মঞ্চ থেকে নিচের দিকে ১২ ফুট গভীর গর্ত আছে। সেই গর্ত কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢাকা। ফাঁসি কাষ্ঠের লাগোয়া উত্তর দিকে আছে গিয়ার। যার সঙ্গে ফাঁসির দড়ির একপ্রান্ত লাগানো থাকে। আর ফাঁসির কাষ্ঠ থাকে দড়ির আরেক প্রাপ্ত থাকে ঝোলানোর জন্য। গিয়ারের দায়িত্ব থাকে একজনের। তার পাশে পূর্ব দিকে আরও তিন জন অবস্থান নেন।

তবে মূল মঞ্চসহ পুরো ফাঁসির মঞ্চটি আরও বড়। মূল মঞ্চের পূর্ব দিকে ৩টি কনডেম সেল। দক্ষিণে একটি লম্বা টেবিল, যার পাশে ১০ জন বসতে পারেন। তার সামনে আরেকটি টেবিল যাতে ফাঁসি কার্যকর করার পর প্রথম মৃতদেহ রাখা হয়। আর পশ্চিমে ১০ জন সশস্ত্র পাহারাদার। যাদের সবার হাতে থাকে ভারি আগ্নেয়াস্ত্র।

ফাঁসি দেওয়ার আগে প্রথমে কনডেম সেলে গিয়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে কালেমা পড়ান চারজন জল্লাদ। সঙ্গে থাকেন একজন ইমাম। কালেমা পড়ানোর পর কালো রংয়ের জমটুপি পরিয়ে মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে দেওয়া হয়। দু’হাত পেছন দিকে বাঁধা হয়। এর পর জল্লাদরা দণ্ডিতকে নিয়ে কনডেম সেলের সামনের খালি জায়গা ধরে হেঁটে বেরিয়ে যান। একটু দক্ষিণে গিয়ে ফাঁসির মূল মঞ্চ সামনে রেখে চলে যান পশ্চিমে। সেখান থেকে ঘুরে উত্তরে এগোলেই মূল ফাঁসির মঞ্চের সিঁড়ি। সিঁড়ির পাঁচটি ধাপ পেরিয়ে মঞ্চে উঠতে হয়। মঞ্চে ওঠানোর পর যে গর্তটি কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢাকা থাকে সেখানে দাঁড় করানো হয় দণ্ডিতকে। এরপর দু’পা সাদা কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়।

ততক্ষণে গিয়ারের কাছে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তি প্রস্তুত হয়। জল্লাদরা ফাঁসির রজ্জু পরিয়ে দেয় দণ্ডিতের গলায়। কনডেম সেল থেকে মঞ্চ পর্যন্ত এসকল আনুষ্ঠানিতা সম্পন্ন করে একজন কয়েদিকে নিতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট।

এরইমধ্যে দক্ষিণের টেবিল সামনে রেখে মঞ্চমুখ করে চেয়ারে বসেন সিভিল সার্জন, ঢাকা জেলা প্রসাশক, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, আইজি প্রিজন, জেল সুপার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধি এবং কারা হাসপাতালের চিকিৎসক।

জেল সুপারের হাতে থাকে লাল রুমাল। ওই রুমাল নামিয়ে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে গিয়ারে টান দেওয়া হয়। সরে যায় গর্তের কাঠ। তখুনি ফাঁসির রজ্জুতে গর্তের ভেতরে ঝুলতে থাকেন দণ্ডিত। ১৭ মিনিট ঝুলিয়ে রাখার পর নিচের দিকে থাকা গর্তের গেট থেকে গর্তে প্রবেশ করেন জল্লাদরা। মরদেহ আবার গর্ত থেকে টেনে মঞ্চে ওঠানো হয়। তারপর দড়ি খুলে মরদেহ রাখা হয় সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সামনে রাখা টেবিলে।

তারা দেখার পর লাশ নেওয়া হয় পাশের মর্গে। সেখানে তার স্পাইনাল কর্ড ও হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। তারপর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভাবে আধা ঘণ্টায় শেষ হয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যাবতীয় আনুষ্ঠনিকতা।

ফাঁসিতে দড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ম্যানিলা রোপ। আর জল্লাদ ঠিক করা হয় কয়েদিদের মধ্য থেকেই।

জেল সুপার ফরমান আলি জানান, ‘কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করার সব প্রস্তুতিই আমরা নিয়ে রেখেছি। বাকিটা সময়ের অপেক্ষা।’- বাংলা ট্রিবিউন

মতামত