টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রাণভিক্ষা: যথাসময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন কামারুজ্জামান

bjiচট্টগ্রাম, ০৯ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে আইনি বিধি-বিধান আইনজীবীদের কাছ থেকে জেনে নিয়েছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান।

এখন তিনি যথা সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মো. মুনির।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে কামারুজ্জমান আইনের বিধি-বিধান সম্পর্কে জেনেছেন। এখন তিনি চিন্তা-ভাবনা করছেন। প্রাণভিক্ষার বিষয়ে যৌক্তিক সময়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।’

শিশির মুনির বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে আমরা আইনের বিধিবিধান সম্পর্কে তাকে অবহিত করেছি। সাধ্যমত বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এই মামলার রায়ের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে তিনি আমাদের কাছ থেকে জেনেছেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য কামারুজ্জামান সাত দিন সময় পাবেন। এর মধ্যে তিনি চিন্তা-ভাবনা করবেন। আবারো আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে চাইতে পারেন। আর যথা সময়ে কামারুজ্জামান সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

শিশির মুনির আরো বলেন, ‘আমরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে কারাগারে আধা-ঘণ্টা কথা বলেছি। তিনি সুস্থ এবং মানসিকভাবে শক্ত অছেন। ফাঁসির রায়ে তিনি বিচলিত নন। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

এর আগে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ায় মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে আট সদস্যের একটি আইনজীবী দল বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কারাগারে আসেন। সেখান থেকে ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে পাঁচজনকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

তারা হলেন- অ্যাডভোকেট শিশির মো. মুনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মুজিবুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। এ সময় অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন, তারিক ইসলাম ও গাজী তানিম কারা ফটকের বাইরে অবস্থান করেন।

এদিকে, কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী আরটিএনএন- কে বলেছেন, ‘আইনজীবীরা বাবার সঙ্গে কথা বলার পর পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে আমরা পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

এর আগে গতকাল বুধবার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ আজ সকাল ১১টায় কামারুজ্জামানের সঙ্গে তার আইনজীবীদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে ৩৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চের চার সদস্য। বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

এরপর বিকেলে হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবউজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করেন।

ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রায়ের অনুলিপি সন্ধ্যা পাঁচটা ৫২ মিনিটে একটি মাইক্রোবাসে করে কারাগারে নিয়ে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবউজ্জামানসহ পাঁচ কর্মকর্তা।

সেখানে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ফরমান আলীর কাছে রায়ের অনুলিপি হস্তান্তর করেন আফতাবউজ্জামান। একই সময়ে রায়ের একটি করে কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসক (জেলা ম্যাজিস্ট্রট), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছে পাঠানো হয়।

পরে কারা কর্তৃপক্ষ জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে রায়টি পড়ে শোনান এবং তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। তখন কামারুজ্জামান আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান।

বিধি অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার পর কারাগার কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কাজ শুরু করে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার যাবতীয় প্রস্তুতি গত সোমবারেই নিয়ে রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ কামারুজ্জামানের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ গত বছরের ৩ নভেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছায়। ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় কামারুজ্জামানের পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়।

২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী সাতটি অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে ২০১২ সালের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুটিতে মৃত্যুদণ্ড, দুটিতে যাবজ্জীবন ও একটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত