টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঘুষের টাকা ফেরত দিল মিরসরাই থানা পুলিশ!

এম মাঈন উদ্দিন 
মিরসরাই  প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৮ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: অবশেষে ঘুষের টাকা ফেরত দিল মিরসরাই থানা পুলিশ। মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিকুল ইসলাম থানার পক্ষে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী আজিজের বোন হাসিনার হাতে ওই ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছেন। ১৩নম্বর মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে চেয়ারম্যান কবির নিজামী বরাবর এসেছে।

চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী জানান, ওই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মূলত পুলিশ প্রশাসন প্রচন্ড চাপে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় ৩১ মার্চ উপজেলা সমন্বয় সভায় একই বিষয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে ২ এপ্রিল মিরসরাইয়ের সাংসদ, গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের রুদ্ধদার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেও ঘুষের বিনিময়ে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে থানার এএসআই দেলোয়ারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও সেকেন্ড অফিসার এসআই আক্কাস আলীকে বদলীর চিঠিও এসেছে বলে তিনি জানান। ৬ এপ্রিল রাতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিকুল ইসলাম থানার পক্ষে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী আজিজের বোন হাসিনার হাতে ঘুষের টাকা ফেরত দেন।

চেয়ারম্যান কবির নিজামী মুঠোফোনে আরো জানান, এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আসা মিরসরাই থানার এএসআই যশমন্ত মজুমদার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ (সূত্র : স্বারক নং২২৯১/২য় তারিখ ৫.৪.১৫ইং পুলিশ হেডকোর্টার স্বারক নং ৬২৪ তারিখ ২৫.৩.১৫ইং, পুলিশ সুপার চট্টগ্রামের স্বারক নম্বর ৯৮৬/২য় তারিখ ২৯.৩.১৫) তার (কবির নিজামী) বরাবর এসেছে। ৮ এপ্রিল সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ঘটনার তদন্ত হবে।

উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান কবির নিজামীকে তদন্তের জন্য নোটিশ প্রদানের কথা স্বীকার করলেও ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলেও তিনি জানান।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, টাকা নেওয়া দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। এএসআই দেলোয়ার এবং এসআই আক্কাস আলীর বদলীর অর্ডার এলেও তাদেরকে মিরসরাই থানা থেকে ছাড়া হয়নি বলে তিনি জানান। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য চেয়ারম্যান কবির নিজামীকে নোটিশ প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি ইমতিয়াজ ভূঁইয়া।

প্রসঙ্গত :
গত ১৮ মার্চ মায়ানী ইউনিয়নের আব্দুল মান্নানের ছেলে আবদুল আজিজকে মিরসরাই থানার এএসআই দেলোয়ার ফোন করে তার সাথে দেখা করতে বলেন। সন্ধ্যায় আজিজ চেয়ারম্যান কবির নিজামীকে সাথে নিয়ে থানায় যান। এসময় থানায় এএসপি সার্কেল সালাহ উদ্দিন শিকদার মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে ছিলেন। এএসপি সার্কেল (সীতাকুন্ড) মো. সালাহ উদ্দিন শিকদার তাকে (কবির নিজামী) জানিয়েছিলেন এই আসামীকে স্বয়ং আইজিপিও ছাড়তে পারবেন না। ২০১০ সালে আব্দুল আজিজ ছাত্র থাকা অবস্থায় রাজশাহীর মতিহার থানা পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। সেই মামলার ওয়ারেন্ট এবং মালামাল ক্রোকের নির্দেশনা এসেছে থানায়।

কিন্তু গভীর রাতে এএসপি সার্কেল (সীতাকুন্ড), মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া, সেকেন্ড অফিসার এস আই মো. আক্কাসের সম্মতি ও যোগসাজসে এসআই দেলোয়ার হোসেন আজিজের বোন হাসিনার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আজিজকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান কবির নিজামী। মিরসরাই থানার গোলঘরে আজিজের বোন হাসিনা পুলিশের এএসআই দেলোয়ারের হাতে টাকা দেয়। এসময় ডিএসবির সদস্য বেলালও উপস্থিত ছিলেন।

সমন্বয় সভায় রেজুলেশন :
সমন্বয় সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। ৫০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির নিজামীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ী পুলিশের বিরুেেদ্ধ সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবস্থা নেওয়ার রেজুলেশন হয়।

মন্ত্রী মোশাররফের কাছে নালিশ:
মিরসরাইয়ের উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ইয়াছমিন আক্তার কাকলীর নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃৃন্দ গৃহায়ন ও গণ-পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নালিশ করেন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনে । গত ০২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামস্থ মন্ত্রীর বাস ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রীকে এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিতেও তাঁরা অনুরোধ করেন। মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেবেন বলে চেয়ারম্যানদের আশ্বাস দেন।

মতামত