টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে শিক্ষা বিস্তারে যুগ যুগ ধরে অসামান্য অবদান রাখছেন করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

unnamed (2)চট্টগ্রাম, ০৮ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নে ফেনী নদীর অববাহিকায় পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যাপিঠ ইতমধ্যে ৬৮ বছর পার করেছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিদ্যালয়টি উপজেলার মধ্যে অন্যতম স্থান করে নিয়েছে। একটি মর্যাদাশীল আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা বিস্তারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জীবনকে আলোকিত করেছে। গ্রামের অন্ধকারময় পরিবারগুলোতে আলো ছড়িয়েছে। এসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা কালে কালে দেশ হিতৈষী শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক বিজ্ঞানী, সরকারী আমলা, চিকিৎসক, আইনজীবি, শিল্পপতি, ব্যাংকার, দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

unnamedজানা গেছে, ১৯৪৬ সালে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় যতীষ কর চৌধুরী এ বিদ্যালয়ের জন্য ৭৯ শতক জায়গা দান করেন। উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের বাসিন্দা কামিনী মজুমদার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সহযোগীতা করেন। তাই তার নামে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টি ১৯৫০ সালে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে ।১৯৮৪ সালের ১ ডিসেম্বর এমপিওভূক্ত হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে প্রায় ১২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৫ জন কর্মচারী রয়েছে বিদ্যালয়ে। ১৬টি শ্রেণী কক্ষ, একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি মিলনায়তন, বিজ্ঞানাগার, একটি খেলার মাঠ, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকদের জন্য আলাদা ৪টি শৌচাগার ও ২টি নলকূপ রয়েছে অত্র বিদ্যালয়ে। বিগত বছরগুলোতে এসএসসি ও জেএসসির ফলাফল খুব ইশ্বার্নিত না হলেও আগামী দিনে ভালো ফলাফলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে একঝাঁক উদ্যোমী শিক্ষক ও দক্ষ পরিচালনা পরিষদের নিপুন প্রচেষ্ঠায় এগিয়ে যাচ্ছে অজোপাড়াগাঁয়ের এই বিদ্যাপিঠটি।

গত তিন বছরের ফলাফলে দেখা গেছে, ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষার শতকরা পাশের হার ৯৫%। জিপিএ-৫ দুইজন। ২০১৩ সালে শতকরা পাশের হার ৯৪%। জিপিএ-৫ দুই জন। ২০১৪ সালে শতকরা পাশের হার ৯৬%। জিপিএ-৫ পাঁচজন।

অন্যদিকে জেএসসি পরীক্ষায় (জুনিয়র স্কুল সাটিফিকের্ট পরীক্ষা) ২০১২ সালে পাশের শতকরা হার ৮৩%। জিপিএ-৫ দুইজন। ২০১৩ সালে শতকরা পাশের হার ৮০%। জিপিএ-৫ তিন জন। ২০১৪ সালে শতকরা পাশের হার ৯৩%। জিপিএ-৫ পনের জন।

unnamed (1)ভবিষ্যতে শতভাগ ফলাফল সহ আরো ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া । পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংকৃতিক ক্ষেত্রেও অবদান রেখে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২০১৩ সালে উপজেলায় ফুটবল টূর্নামেন্টে রানার্সআপ হয় অত্র বিদ্যালয়ের ফুটবল দল। এছাড়া বার্ষিক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি জাতীয় সব দিবস অত্যান্ত ঝাঁকঝমকভাবে পালন করা হয়। ২০১৪ সালের ১লা এপ্রিল এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন মো. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন সংকট অন্যতম সমস্যা । বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সে তুলনায় শ্রেণী কক্ষের সংকট রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকট, সুপেয় পানির অভাব রয়েছে বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়কে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি এক বছর পূর্বে। তারপরও বিদ্যালয়কে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটি সাথে নিয়মিত আলোচনা করা হয়, কীভাবে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল অর্জন করা যায়। ইতমধ্যে ভালো ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নিচ্ছি। একঝাঁক উদ্যোমী শিক্ষকদের নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানকে উপজেলার একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠে রূপান্তরিত করতে আমি বদ্ধপরিকর।

২০১০ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নেন শিক্ষানুরাগী শাখাওয়াত উল্লাহ রিপন। তখন থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয়ে উন্নতি এবং ভালো ফলাফল অর্জনের জন চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। ইতমধ্যে নিজের অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার নির্মান করেছেন। একটি কম্পিউটার প্রদান করেন এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছন। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ রিপন বলেন, করেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় আমার জীবনের একটি অংশ। ২০১০ সাল থেকে আমি এ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের আরো উন্নতির জন্য আমরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাব। আমি বিদ্যালয়ে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে সহযোগীতা করে আসছি। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা সর্ম্পকে তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভবন সংকট। বর্তমানে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। একটি ভবন নির্মিত হলে আমাদের ভবন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়া শিক্ষক সংকট রয়েছে। যেখানে ১২৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে সরকারীভাবে ১২ জন শিক্ষক রয়েছে। ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীতে তিনটি সেকশনে ভাগ করে ক্লাস নিচ্ছি। ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণীতে দুটি সেকশন ভাগ করে ক্লাস নিতে হয়। তিনি আরো বলেন, করেরহাট ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এছাড়া পাহাড়ী নৃ গোষ্ঠির ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়ছে। তাদের অভিবাবক সচেতন না হওয়ায় ফলাফলে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।

মতামত