টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয়: নাছিরের ২৭ লাখ, মনজুরের ৩০

ccচট্টগ্রাম, ০৪ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে এবার মেয়র পদপ্রার্থী আ জ ম নাছিরের সম্ভাব্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। আর মনজুর আলমের সম্ভাব্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। তবে নাছিরের চেয়েও আরও এক লাখ টাকা বেশি ব্যয় দেখিয়েছেন জাপা প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ। ২৮ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের মধ্যে তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ, স্বজনদের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

যা তাদের নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় করা হবে বলে হলফনামার আয়-ব্যয় বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যয় বিবরণীতে দেখা যায়, সাবেক মেয়র ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম এক লাখ পোস্টার ছাপানোর জন্য পাঁচ লাখ টাকা। ১০টি নির্বাচনী কার্যালয় ও ক্যাম্পের জন্য দুই লাখ টাকা। প্রধান কার্যালয়ের জন্য ব্যয় বরাদ্দ রেখেছেন এক লাখ ১০ হাজার টাকা। নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা। চারশ ডিজিটাল ব্যানার ও দুইশ সাধারণ ব্যানারের পেছনে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ও একশ পথসভার জন্য ৩০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করেছেন।

আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ৮২ হাজার পোস্টার ছাপানোর জন্য এক লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ১৩টি নির্বাচনী অফিস/ক্যাম্পের জন্য এক লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জন্য ৫২ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছেন।

এছাড়া এজেন্ট ব্যয় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। ৬০০ ডিজিটাল ব্যানারের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার ও ৩০০ পথসভার জন্য ৯০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছেন। যানবাহন ও মাইকিংয়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় ধরেছেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। ২০৫টি প্রতীক তৈরির জন্য ব্যয় ধরেছেন ৪১ হাজার টাকা। মিডিয়ায় প্রচারের জন্য দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

জাতীয় পার্টি প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ ২১ হাজার পোস্টারের জন্য ধরেছেন ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। ১৩টি অফিস/ক্যাম্পের জন্য তিন লাখ ৯৫ হাজার টাকা। প্রধান কার্যালয়ের জন্য ধরেছেন আড়াই লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যয় ধরেছেন দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা। ১৪০টি ডিজিটাল ব্যানারের জন্য এক লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ৪৫ পথসভার জন্য ৫০ হাজার টাকা। অন্যান্য ব্যয় ধরেছেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারের জন্য।

এসব ব্যয় নিজের আয় থেকে ১০ লাখ, এস আলমের মালিক মাসুদুল আলমের কাছ থেকে ১০ লাখ ও জামাই ফজলুল আলিফ খানের কাজ থেকে ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করবেন বলে উল্লেখ করেছেন সোলায়মান আলম শেঠ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, মেয়র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। ব্যাংক হিসাব থেকে এ টাকা ব্যয় করতে হবে। নির্বাচন শেষে খরচের ভাউচারসহ ব্যয়ের বিবরণী কমিশনে দাখিল করতে হবে। নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিংয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও আমাদের কর্মকর্তারা তৎপর থাকবেন। অন্তত প্রতি সপ্তাহে ব্যয়ের বিবরণী যাচাই-বাছাই করার জন্য আমাদের একটি টিম কাজ করবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের অভিমত- মেয়র, কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী বিধিতে ব্যয় বেঁধে দেয়া থাকলেও তা রক্ষা করেন না প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা ব্যয়ের কয়েকগুণ বেশি আয়-ব্যয়ের রেওয়াজ রয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব চলে আসছে।

মতামত