টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাছিরের পাশে ছাত্রলীগ, মনজুর পাশে নেই ছাত্রদল

ccচট্টগ্রাম, ০৩ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের পাশে থেকে কাজ শুরু করেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী মনজুর আলমের পাশে নেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এর মূল কারণ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন না দেওয়া হলেও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বলছেন, মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা নির্বাচনের কাজে মাঠে নামতে পারছে না।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী বলেন, মনজুর আলম হচ্ছেন দলের বসন্তের কোকিল। মেয়র হওয়ার পর থেকে দলের কাজে তার কোন ভুমিকা নেই। ফলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্দ।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী আ জ ম নাছিরের প্রতি সমর্থন দেওয়ার পর ছাত্রলীগ সকল প্রকার মান-অভিমান ভুলে দলকে জেতাতে কাজ করছেন। ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর আ জ ম নাছির দল গোছাতেও কাজ করেছেন।

নেতাকর্মীরা জানান, আ জ ম নাছিরকে জেতাতে ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন শুরু করেছে। এরই মধ্যে নগরের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স¤পন্ন হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড নেতাকর্মীদের নিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং ভোটের দিন ভোটারদের সংগঠিত করার উদ্দেশে এসব কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাছির ভাইয়ের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোট দিতে সহায়তা করতে আমাদের এ উদ্যোগ।

তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ৮ এপ্রিলের পর আ জ ম নাছিরের পক্ষে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামবে ছাত্রলীগ। করবে শোডাউন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রেরণা দিতে ঢাকা থেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ স¤পাদকসহ অর্ধশতাধিক সদস্যের একটি বহর ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসছেন।

নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম স¤পাদক রনি মির্জা বলেন, ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার অনুসারী হলেও নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধ ভুলে একাট্টা হয়ে তারা দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাবে। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কোনো ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে নয়, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম স¤পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, প্রার্থী নিয়ে আমাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বটে কিন্তু নির্বাচন যেহেতু দলীয় অস্তিত্বের বিষয়, তাই আমরা যে নেতার অনুসারী হই না কেন, দলের টানে সবাই এক কাতারে চলে এসেছি।

এদিকে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মতবিরোধ ভুলে ছাত্রলীগ একাট্টা হলেও এক হতে পারেনি ছাত্রদল। দলের সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমকে মেনে নিতে পারছে না ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হয়েও দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে না থাকায় মনজুর আলমের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ নগর ছাত্রদল।

শুধু নগর নেতারা নয়, থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীরা পর্যন্ত মনজুর আলমের প্রতি ক্ষুব্ধ। এরই মধ্যে মিছিল-সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে মনজুর আলমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা দলের দুঃসময়ের কা-ারি আখ্যায়িত করে নগর বিএনপির সাধারণ স¤পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র প্রার্থী করার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের আগে আমরা মনজুর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের চেয়ারপারসন তাকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করার পর আমরা তা মেনে নিয়েছি। তবে মূল কথা হচ্ছে মামলা থাকার কারণে আমরা মাঠে নামতে পারছি না।

গাজী সিরাজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪৫টি মামলা হয়েছে, আর পাঁচটা হলে হাফ সেঞ্চুরি হবে। আমার সেক্রেটারির বিরুদ্ধে আছে ১৩টি মামলা। এছাড়া মহানগরের সকল নেতার বিরুদ্ধে তো আছেই। এমনকি নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি-সেক্রেটারির বিরুদ্ধে পাঁচটির ওপর মামলা আছে। এখন বলেন, আমরা কীভাবে মাঠে নামবো?

মতামত