টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চসিক নির্বাচনঃ কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় আ.লীগ-বিএনপি

albd-bnpচট্টগ্রাম, ০১ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একজন করে প্রার্থীকে সমর্থন দিলেও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে উভয়দলই বেকায়দায় রয়েছে। প্রধান দুটি দলই প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী নিশ্চিত করার কথা বললেও তিন থেকে চারজন করে প্রার্থী রয়েছেন।

তবে একক প্রার্থী নির্ধারণে মাঠে কাজ করছেন বলে জানান আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। যারা আগামী ৩ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়ের মধ্যে একক প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, নগরীর জামালখান ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বিজয় কিষাণ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আবু নাসের ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী শৈবাল দাশ সুমনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বর্তমান কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী রয়েছেন। এই ওয়ার্ডে আ জ ম নাছির গ্রুপের আশীষ ভট্টাচার্যও নির্বাচন করছেন।

একইভাবে পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বর্তমান কাউন্সিলর জহির আহমদ রয়েছেন। একই আসনে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ইবনে আহমদ ও সদরঘাট থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ নেতা আতাউল্লাহ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে সিটি কলেজের সাবেক ভিপি গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মহসিন প্রার্থী হচ্ছেন। একইভাবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন শীর্ষ নেতারা।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, দল থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত অনেক এলাকায় সেই নির্দেশনা মানা হয়নি। এমন হলে নগরীর সব ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দল।

এ ক্ষেত্রে কী কৌশল হতে পারে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগের পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এরপরও যদি কোনো ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী, কে কে রয়েছেন এবং কোন ওয়ার্ডে কে বেশি গ্রহণযোগ্য তা বিবেচনা করে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করবো।

অপরদিকে বিএনপিতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার সেলিমের সাথে প্রার্থী হচ্ছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন। ৬নং ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মো. লিটনের সাথে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত তসকির।

এভাবে নগরীর ১৪ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ড, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড, ৩৭ নম্বর উত্তর-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড ও ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থিতা বিষয়ে ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, দল থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থিতার নির্দেশ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় অনেকেই তা মানছে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও উত্তর জেলা বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে আমরা ২০ দলের প্রার্থিতা নিশ্চিত করছি। প্রতি ওয়ার্ডে ২০ দলের প্রার্থী হবে একজন। এখন অনেকে মনোনয়ন ফরম নিলেও জমা দেওয়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ পর্যন্ত আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করিয়ে নেবো।

২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে জামায়াতের প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক  বলেন, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সামনে আসতে পারছে না। তাই নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ও ৮ নম্বর শুলকবহর হয়তো এবারও ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, তবে নতুন কোনো ওয়ার্ড দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১ ও ২ এপ্রিল চলবে মনোনয়নপত্র বাছাই এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ ২৮ এপ্রিল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত