টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অপার সম্ভাবনাময় কাপ্তাইয়ের পর্যটন শিল্প

meKe-300x233

কাপ্তাই:: অপার সম্ভাবনার কাপ্তাইয়ের সৌন্দর্য্যরে প্রকৃতির  লীলাভূমি উপভোগ করতে কাপ্তাইয়ে প্রতিদিন আসা দেশ বিদেশের পর্যটকদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছেই। কিন্তু কাপ্তাইয়ের পর্যটন এই শিল্প কাংখিত লক্ষ্যে দীর্ঘ ৩০ বছরেও পৌছাতে পারেনি। এক সময়কার তিন পার্বত্য জেলার সাব-ডিভিশন ছিল কাপ্তাইয়ে। এই কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা থেকেই শাসনবিধি নিয়ন্ত্রিত হত। শুধু তাই নয় কাপ্তাই রাজনৈতিক জেলা শাখা ছিল। এছাড়াও খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ এই তিন পার্বত্য জেলার সকল কাজ সম্পাদিত হত কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায়। শুধু তাই নয় আরব আরাকান মোগল পুর্তগিজ ও ব্রিটিশরাও পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বহু শতাব্দি আগে তাদের অবস্থান ছিল।

পার্বত্য কাপ্তাইয়ে প্রাকৃতিক অপরূপ দৃশ্য, পাহাড়-হৃদ, কর্ণফুলী নদী আর অসংখ্য গিরি ঝর্না ঘেড়া কাপ্তাইয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শত শত বছরের। প্রাকৃতিক নীলাভূমি জীব বৈচিত্রের সৌন্দর্য্যরে সমারোহে কাপ্তাই দেশের অন্যসব পর্যটন এলাকা থেকে শ্রেষ্ঠত্বের স্বতন্ত্র। এই কাপ্তাইয়ে বিশাল বিশাল উচু পর্বত প্রকৃতির নীলাভূমি, জীব বৈচিত্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে অপরূপে মানুষের মনের দাগ কাটে। ফলে কাপ্তাইয়ে পর্যটকরা বেড়াতে আগ্রহ রয়েছে সীমাহীন।

কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য কাপ্তাই মডেল উপজেলায় পর্যটন শিল্প বিকাশে এ যাবৎ কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি সরকারীভাবে। আবার পর্যটন শিল্প কর্পোরেশন-কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতিক অভাবনীয় রূপের বৈচিত্রের গুণাবলী পর্যটকদের কাছে এ যাবৎ তুলে ধরার কোন আয়োজনও নেননি পর্যটন কর্পোরেশন। ফলে সম্ভাবনার কাপ্তাইয়ে এখনো পর্যন্ত গড়ে উঠেনি পর্যটন বান্ধব পরিবেশ। অথচ পর্যটকদের জন্য কি নেই কাপ্তাই অঞ্চলে। সব কিছুই আছে এই কাপ্তাইয়ে।

times pic-

শুধু তাই নয় এখানে রয়েছে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম কৃত্রিম হ্রদ, কর্ণফুলী পেপার মিল, কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রাকৃতিক বন, কাচামাল সরবরাহ জেটি, এক গুম্বুজের উপর বিশাল মসজিদ, চিৎমরম কেয়াং, কর্ণফুলী নদীর শেষ প্রান্ত, তৎকালীন ভারতবর্ষের সীতা ও রাম পাহাড়, সবমিলে এসব এলাকার সৌন্দর্য্য দেখে পর্যটকরা মনের অজান্তে হেরে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হন। কারণ কাপ্তাইয়ে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন ও কালের পরিবর্তনের ছোয়ায় আজ কাপ্তাই উন্নতির শিখরে না পৌছে এখনো অবহেলিত। অথচ এ কাপ্তাইয়ে প্রতিদিন কোন না কোন মন্ত্রী-এমপি এমনকি দেশ বিদেশের রাষ্ট্রদুতরাও কাপ্তাই পরিদর্শনে আসেন। পর্যটন জোন কাপ্তাইকে সচল করতে পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করা গেলে প্রত্যাশিত কাপ্তাইয়ের সম্ভাবনা ময়ী পর্যটনগুলোর প্রতি সরকার সহযোগিতার হাত বাড়াবে। চেয়ারম্যান বলেন- কাপ্তাইয়ে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটাতে হলে থাকা খাওয়া যাতায়াত ব্যবস্থা সুনিদিষ্ট করতে হবে। দেশী- বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল-মোটেল গুলোতে চেইন বিজন্যাস চালুর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে কাপ্তাইয়ের মারমা সম্প্রদায়ের ও এলডিপির রাজনৈতিক নেতা সাহ্লাপ্রু মারমা (এস.পি মারমা), রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আখতারসহ আরও অনেকে আক্ষেপ করে বলেন- গেল ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারী-বেসরকারী সংস্থাগুলো দিবসের কর্মসূচী নানাভাবে পালন করলেও কাপ্তাই তা যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগ না থাকায়। তারা আরও বলেন- কাপ্তাইয়ে ২০১০ সালে দেশী-পর্যটক এসেছে দেড় লাখ।

times pic-s

এসব পর্যটন থেকে আয় করেছে কাপ্তাইয়ের ৬টি পর্যটন স্পট দেড় কোটি টাকা। ২০১১ সালে পর্যটক এসে কাপ্তাইয়ে ভীর জমিয়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ। এদের থেকে ৬টি পর্যটন স্পটে আয় করে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা। গেল ২০১২ সালে কাপ্তাইয়ের প্যানরমা জুম, বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্স, পাহাড়ীকা, জাতীয় উদ্যান, নেভেল পিকনিক স্পট, লেক ভিউ এই ৬টি পিকনিক স্পটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে ভীড় জমায় এবং বেড়ান প্রায় আড়াই লাখ পর্যটক। এই পর্যটকদের থেকে কাপ্তাইয়ের সব পর্যটন গুলো আয় করেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মত। এই সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত সরকারীভাবে নজরদারী না থাকায় দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

স্থানীয় সময়ঃ ৯.০১ঘন্টা/০৯মে ২০১৪/পার্বত্য চট্টগ্রাম অফিস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত