টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মেঘে গাঁ ভাসানো সম্ভব নীলগিরি পর্যটন স্পটে!

munshiyana_1255388270_2-nil_LAST

বান্দরবান:: আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন কার না জাগে, মেঘে গা ভাসানোর ইচ্ছে কার না করে! সব স্বপ্ন এবং ইচ্ছে কখনো পূরণ হয় না কথাটি সত্যি। তবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে এবং মেঘে গাঁ ভাসানো সম্ভব নীলগিরি পর্যটন স্পটে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত সেনানিয়ন্ত্রিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ২০০ ফুট। নীলগিরি এখন পর্যটকদের কাছে মায়াবি এক আকর্ষণ। জেলা সদর থেকে পাহাড়ি আকাঁবাঁকা সড়কে ৪৭ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান।

আর বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় থেকে থানছি উপজেলা সড়কপথে আরও ২৬ কিলোমিটার যেতে হয় নীলগিরি পৌছাতে। যাওয়ার পথে চারপাশের দৃশ্যগুলো খুবই চমৎকার। সেনাবাহিনীর বান্দরবান ৬৯ পদাতিক সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে নীলগিরি পর্যটন স্পটটি। এখানে রাত্রিযাপনসহ থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থাও রয়েছে। সেনা নিয়ন্ত্রিত নীলগিরি পর্যটন স্পটে গড়ে তোলা কটেজগুলোও দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

munshiyana_1255388506_3-MAP

মনে হয় যেন থাইল্যান্ডের কোনো এক শহরে অবস্থান করছি। চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। দু চোখ যেদিকে যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি। মেঘ ছুয়ে দেখতে চান। তবে এখনি ছুটে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান। তবে নীলগিরি পর্যটন স্পট দেখে যেতে ভুলবেন না। নীলগিরিতে মেঘ আর রোদের মধ্যে চলে লুকোচুরি খেলা। কখন এসে মেঘ আপনাকে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে বোঝার অবকাশ নেই। ঘন মেঘের চাঁদরে হারিয়ে যেতে নীলগিরি উপযুক্ত স্থান।

সেনানিয়ন্ত্রিত নীলগিরি রিসোর্টে ছয়টি কটেজ রয়েছে। নামগুলো হচ্ছে আকাশনীলা, মেঘদূত, নীলাঙ্গনা, হেতকরা রাইচা এবং মারমারাইচা। কটেজগুলো থাকতে হলে পর্যটকদের গুণতে হবে ৪ হাজার থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। আর নীলগিরি রেস্টুরেন্টে দশ জনের অধিক খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় হাজার টাকা চার্জ নেয়ার নিয়ম রয়েছে বলে জানাগেছে। নীলগিরি’তে রাত্রিযাপনে কটেজের রুম বুকিং এবং রেস্টুরেন্টে খেতে প্রায় দেড় মাস আগে বুকিং দিতে হয়।

বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার রেফারেন্স অবশ্য লাগবে। রেফারেন্স ছাড়া কোনো বুকিং নেয়ার নিয়ম নেই নীলগিরি রিসোর্টে। তবে পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে কোনো রেফারেন্স লাগে না, সেক্ষেত্রে নীলগিরি পর্যটন স্পটটি ঘুরে বেড়াতে পর্যটকদের জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং গাড়ির জন্য আলাদা ৩০০ টাকা অতিরিক্ত ফি নেয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি রাজু-ইসরাত জানান, নীলগিরি স্পটটি দেখে মুগ্ধ হওয়ার মত। তবে নীলগিরি থাকা-খাওয়া এবং ভ্রমণ খুবই ব্যয়বহুল।

munshiyana_1255387664_1-Restuarent

ভাড়ায় চালিত অসংখ্য জিপ গাড়ি থাকলেও ৩/৪ হাজার টাকার কমে নীলগিরি যেতেই চায় না। থানছি উপজেলা সড়কে চলাচলকারী বাসগুলোতে করে কম খরচে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও গাড়িগুলো সময়মত পাওয়া কঠিন। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের বিষয়গুলো আরো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অপরদিকে সেনানিয়ন্ত্রিত নীলগিরি পর্যটন রিসোর্টে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নীলগিরি পর্যটন স্পটটি সেনাবাহিনীর হলেও সবার ভ্রমণ উন্মুক্ত। শুধুমাত্র নীলগিরি রিসোর্টে থাকা-খাওয়ার ক্ষেত্রে সেনা অফিসারের রেফারেন্স বাধ্যতামূলক রয়েছে। পর্যটন স্পটটির পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং স্পটটির মান ধরে রাখতে পর্যটকদের কাছ থেকে নির্ধারিত একটি ফি নেওয়া হয়। এখানে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কিভাবে আসবেন

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে পূরবী-পূর্বানী ননএসি এবং কদমতলি থেকে বিআরটি এসি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে বান্দরবান। বান্দরবান-চট্টগ্রাম বাস ভাড়া ননএসি ১১০ টাকা এবং এসি ১২০ টাকা। এছাড়াও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের কেরানীহাট স্টেশন থেকেও বান্দরবান-কেরানীহাট বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। যেভাবে খুশি সেভাবেই বান্দরবান আসতে পারেন।

নীলগিরি কিভাবে যাবেন
নীলগিরিসহ বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেড়াতে ভাড়ায় চালিত বিভিন্ন রকমের গাড়ি পাওয়া যায়। তবে দু’একজনের জন্য জিপ, ল্যান্ড ক্রুজার, পাইপডোরসহ রিজার্ভ গাড়িগুলোর ভাড়া অনেকটা বেশি। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এবং দলবেঁধে একসঙ্গে নীলগিরি ঘুরে বেড়াতে পারলে খরচ অনেকটা কম হয়। সিএনজি এবং মহেন্দ্র গাড়িতে করেও নীলগিরি যাওয়া যায়। এছাড়াও বান্দরবান-থানছি উপজেলা সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস সার্ভিসগুলোতে করেও নীলগিরি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সময় অপচয় হলেও খরচ কমবে।
কোথায় থাকবেন?

বান্দরবানে অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল, মোটল এবং রেস্টহাউজ রয়েছে। যেখানে ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন। যেগুলোতে থেকে ভাড়ায় এবং নিজস্ব গাড়িতে করে সপরিবারে নীলগিরি ঘুরে আসতে পারবেন। এছাড়াও নীলগিরি রিসোর্টে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার রেফারেন্স লাগবে। কারণ রেফারেন্স ছাড়া কোনো বুকিং নেয়ার নিময় নেই নীলগিরি রিসোর্টে। অন্যান্যগুলো হচ্ছে-
হলিডে ইন রিসোর্ট : মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের বিপরীতে ছোট্ট পাহাড়ের চূড়ায় হলিডে ইন রিসোর্ট। এখানে ছোটছোট অনেকগুলো কটেজ রয়েছে। ফোন-০৩৬১-৬২৮৯৬।

হিলসাইড রিসোর্ট : বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের ৫ কিলোমিটার নামকস্থানে অবস্থিত মিলনছড়ি। এখানে রয়েছে উন্নত পরিবেশে রাত্রি যাপনের সু-ব্যাবস্থা। মোবাইল-১৫৫৬৫৩৯০২২।

হোটেল ফোর স্টার : বান্দরবান শহরে অবস্থিত হোটেল ফোরস্টার। এখানে এসি এবং নন এসি দু রকমের রুম রয়েছে। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে রয়েছে টেলিভিশন। ফোন-০৩৬১-৬২৪৬৬।

হোটেল থ্রি স্টার : বান্দরবান পৌর শহরে অবস্থিত হোটেল থ্রি স্টার। এখানে সপরিবারে রাত্রি যাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখানে রুম নয়, ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া হয়। প্রতিটি ফ্ল্যাটে ৮ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। নিজেরা রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। মোবাইল-০১৮১৩২৭৮৭৩১।

হোটেল রিভার ভিউ : জেলা শহরের মধ্যে সাঙ্গু নদীর পাশ্ববর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে হোটেল রিভার ভিউ। এখানে নিজস্ব রেস্টুরেন্টও রয়েছে। ফোন-০৩৬১-৬২৭০৭।

স্থানীয় সময়ঃ ৯.০৮ঘন্টা/০৯মে ২০১৪/পার্বত্য চট্টগ্রাম অফিস

মতামত