টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলার কাশ্মীর : পর্যটকদের মনোরঞ্জনে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে রূপের রানী রাঙামাটি

আলমগীর মানিক

Rangamatiরাঙামাটি:কাশ্মীরকে পৃথিবীর স্বর্গ বলা হয়, তেমনি বাংলার স্বর্গ রাঙামাটি। ছবির মতো সবুজে ঘেরা পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের বিশাল স্থির নীল পানি রাশি রাঙামাটিকে বাস্তবিকই বাংলার সৌন্দয্যের স্বর্গে পরিণত করেছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে অপার আঁধার পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। তাই পার্বত্য শহর রাঙামাটি পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় একটি নাম। যেকোনো ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছেন? তাহলে রাঙামাটি ঘুরে আসতে পারেন। এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা। চারিপাশ যেন পটুয়ার পটে আঁকা কোন পানি রঙের ছবি। কোন উপমাই যথেষ্ট নয় যতটা হলে বোঝানো যায় রাঙ্গামাটির অপরূপ সৌন্দর্য্য। কবির ভাষায়,এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণি সে যে আমার জন্মভূমি।’
এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়ানাভিরাম দৃশ্যপট।
এক নজরে বাংলার স্বর্গ রাঙামাটি
‘রাঙামাটি’ পাহাড়ঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য নান্দণিকতায়পূর্ণ। এ জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি। আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ জেলা। হ্রদ পরিবেষ্টিত পর্যটন এলাকা। দেশের এক মাত্র রিক্সাবিহীন শহর রাঙামাটিতে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খিয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাঁওতাল, রাখাইন, সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ ১৪টি জনগোষ্ঠির বসবাস। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পূর্ব নাম ছিল কার্পাস মহল। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার আওতাভুক্ত হয়। ১৯৮১ সালে বান্দরবান এবং ১৯৮৩ সালে খাগড়াছড়ি পৃথক জেলা সৃষ্টির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মূল অংশই আজকের রাঙামাটি। ব্রিটিশ প্রবর্তিত রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় রয়েছে চাকমা সার্কেল চিফ। চাকমা রাজাই ব্রিটিশ উপনিবেশিক নিয়ম অনুযায়ী চাকমা সার্কেলের চিফ। বৃটিশ আমল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যমান বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী সমন্বয় সাধনের জন্য রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন এর জন্য ১টি টাস্ফফোর্স এবং পার্বত্য এলাকায় ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভূমি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং হাট-বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য বাজার ফান্ড নামক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় জাতীয় সংসদের কেবল ১টি আসন রয়েছে। এ জেলায় উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় অধিবাসীগণ বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী। উপজাতীয়দের অধিকাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং কিছু সংখ্যক হিন্দু এবং খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। অ-উপজাতীয়দের অধিকাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

রাঙামাটির দর্শনীয় স্থান
রাঙামাটিতে ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কাপ্তাই হ্রদ
Rangamatiবাইরে থেকে দেখলে রাঙামাটি শহরকে কাপ্তাই হ্রদের বুকে জেগে ওাা ছোট্ট একটি গিরিশহর বলে মনে হয়। পাহাড়ি এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ অন্যতম। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে এই সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। মূলত পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই বাঁধ নির্মিত হয়। অসংখ্য পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা বিশাল কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে অনুভূতি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। দেশীয় ইঞ্জিন নৌকা, লঞ্চ, স্পিডবোটে দিনভর নৌবিহার করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হলো এই হ্রদ ঘুরতে ঘুরতেই পর্যটকরা দেখে ফেলতে পারবেন রাঙ্গামাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণের জন্য একটু ভোরে রওয়ানা হওয়াই উত্তম। হ্রদের মাঝখান দিয়ে নৌ ভ্রমণ ভ্রমণ পিপাসুদের মনে এমনই এক সুখস্মৃতি তৈরি করবে যা কখনোই ভোলা সম্ভব নয়। যে দিকে চোখ যায়, কেবল পানি আর তার মাঝে মাঝে ছোট ছোট টিলা। লালমাটির টিলাগুলোর গাঁয়ে সবুজের সমারোহ, যেন এগুলো ঢেকে আছে সবুজ কার্পেটে। কখনো ডানে, কখনো বামে আবার কখনো বা মনে হবে সম্মুখে সীমাহীন পথ। পার্বত্য চট্টগ্রামের এ জেলার সর্বত্রই রয়েছে নানান বৈচিত্র্যের ভান্ডার। সত্তর দশকের শেষদিকে রাঙামাটি জেলাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এরপর পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলে পর্যটন কর্পোরেশন। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটির আয়তন ৬ হাজার ৪৮১ বর্গকিলোমিটার।

এছাড়াও রূপের রাণীখ্যাত রাঙামাটির প্রায় ১৭২২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানি আর বাঁকে বাঁকে পাহাড়ের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করবেই। এর পূর্বে ভারতের মিজোরাম রাজ্য, উত্তরে পার্বত্য খাগড়াছড়ি এবং দক্ষিণে পার্বত্য বান্দরবান জেলা। রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনি ট্রলার বা বোট ভাড়া করতে পারবেন। পর্যটন থেকেও বোট ভাড়া করা যায়, তবে রেট একটু বেশি। রিজার্ভ বাজার থেকে বোট বা ট্রলার ভাড়া করলে একটু কম দামে পাওয়া যাবে। তবে পর্যটনের বোট বা ট্রলারের মতো দেখতে সুন্দর না বলে অনেকে সেগুলো ভাড়া নিতে চান না। সারাদিন কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভাড়া পড়বে ১৫০০-২৫০০ টাকা। এছাড়া রাঙামাটি শহর থেকে এখন প্রতিদিন শুভলং ছেড়ে যায় আধুনিক ভ্রমণতরী কেয়ারি কর্ণফুলী। প্রতিদিন সকালে ছেড়ে আবার বিকেলে ফিরে আসে। যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। তবে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য নৌকাটি দেখেশুনে নিন।

শহর ও আশপাশের স্পট
রাঙামাটিতে ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি, জেলা প্রশাসকের বাংলো, সুভলং ঝরণা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুুর রউফের স্মৃতিসৌধ, পেদা টিং টিং, ইকো টুক টুক ভিলেজসহ দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। এগুলো দেখার জন্য সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া নিলে ভালো।

পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু
শহরের শেষপ্রান্তে কর্ণফুলী হ্রদেও কোল ঘেঁষে ‘পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স’। ১৯৮৬ সালে এটি গড়ে তোলা হয়। আকর্ষণীয় পর্যটন মোটেলটি এখানেই। এ এলাকাটি ‘ডিয়ার পার্ক’ নামেই পরিচিত। মোটেল এলাকা থেকে দৃশ্যমান হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর দূরের নীল উঁচু-নীচু পাহাড়ের সারি বিমোহিত করবে যে কাউকেই। এখানেই হ্রদের ওপর ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। যা কমপ্লেক্সের গুরুত্ব ও আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সেতুকে বলা হয় ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’। দুটি পাহাড়ের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের উপর ঝুলে আছে সেতুটি। এটি দেখতে হলে পর্যটন করপোরেশনকে দিতে হবে পাঁচ টাকা। এছাড়াও এখানে আছে সময় কাটানোর অনেক উপকরণ। আছে অডিটোরিয়াম, পার্ক, পিকনিক স্পট, স্পিড বোট ও দেশীয় নৌ-যান। রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি হয়ে সড়ক পথে সরাসরি ‘পর্যটন কমপ্লেক্সে’ যাওয়া যায়। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। যারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সার্ভিস বাসে করে আসবেন তাদের তবলছড়িতে নেমে অটোরিক্সা রিজার্ভ ভাড়া করে যেতে হবে।

সুবলং ঝর্ণা
রাঙামাটি সদর হতে সুবলং এর দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট ও রাঙামাটি বিভিন্ন স্থান থেকে স্পিড বোট ও নৌ-যানে করে সহজেই সুবলং যাওয়া যায়। কাপ্তাই লেক ঘুরতে হ্রদে দেশীয় ইঞ্জিন চালিত বোট অথবা স্পীড বোটে চড়ে বেরুলে প্রথমেই চোখ যাবে পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা সুভলং ঝর্ণার দিকে। বোটে করে সুভলং যাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। বর্তমানে ঝর্ণায় পানি খুব বেশি নেই তবে ভরা বর্ষা মৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে নীচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মুর্ছনায় পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্তমানে এ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এরপরও ঝর্ণার সৌন্দর্য পর্যটকদের মন ভরিয়ে দিতে যথেষ্ট। পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসা ঝর্ণার পানি পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানোর নয়। ইচ্ছে করলে স্নান করতে পারেন ঝরনার শীতল পানিতে। ক্যামেরা থাকলে ঝটপট তুলে নিতে পারেন দুর্লভ কিছু ছবিও। ঝর্ণা দেখা শেষ হলে কিছুক্ষণের জন্য সুভলং বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিন রয়েছে। চাইলে সেখানে সেরে নিতে পারেন চা-নাস্তা পর্ব।

টুক টুক ইকো ভিলেজ
লেকে দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অতিথির জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি উপজাতীয় রেস্তোরাঁয় রকমারি খাবারের স্বাদ। কাঠ এবং বাঁশের কারুকাজে তৈরি এ রেস্তোরাঁয় দেশিয় ও পাহাড়ি মজাদার সব খাবার-দাবার পাওয়া যাবে। ৫০ একর জায়গা জুড়ে বহু টিলা-উপটিলায় পুরো ইকো ভিলেজটিতে সুদৃশ্য বেশ কয়েকটি কাঠের কটেজ। অ্যাটাস্ট বাথ, ব্যালকনি-সমেত এ কটেজগুলো থাকার ব্যবস্থাও ভালো। জানালার ফাঁক গলিয়ে দূরে পাহাড়ের ঢালে কাপ্তাইয়ের পানিতে চাঁদের প্রতিচ্ছবি অসাধারণ। রাতগভীরে বন-বনানী থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকা, নাম জানা-অজানা নিশাচর পশু-পাখির বিচিত্র ডাকে অজানা রাজ্য এসে সামনে দাঁড়ায়। আছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইকো ভিলেজে তৈরি করা হয়েছে ১৫টি গোলঘর। আছে প্রশস্ত খেলার মাঠ, কাঠের ব্র্রিজ। চারদিকে পাহাড়ি গাছ-গাছালির পাশাপাশি নানা রকমের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছও লাগানো হয়েছে। পার্ক ভরপুর লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, আফ্রিকান গাদায়। এর সবুজ পাহাড় ছেড়ে একটু ভেতরের দিকে এগুলেই আদিবাসী গ্রাম। ইচ্ছে করলে সেখানে গিয়ে দেখে আসতে পারেন পাহাড়ি মানুষের সরল জীবনযাপন। এ গ্রামের পাহাড়ের মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে জুম ক্ষেত (পাহাড়ের চূড়ায় চাষাবাদ)। রাঙামাটি শহর থেকে টুক টুক ইকো ভিলেজে যেতে রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে রয়েছে নিজস্ব বোটের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ভাড়াও বেশী নয়।

পেদা টিং টিং ও চাং পাং
কাপ্তাই হ্রদের চারিদিকে কেবল পাহাড় আর হ্রদ। বুনো প্রকৃতি ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না এখানে। এরমধ্যেও চলতি পথে কোন একটি টিলার উপর দেখবেন পেদা টিং টিং এবং চাং পাং। যেখানে এক গ্লাস খাবার পানি পাওয়া কঠিন, সেখানে এই দু’টি রেষ্টুরেন্ট অতিথির জন্য চা-কফি আর চিকেন ফ্রাই নিয়ে অপেক্ষা করছে। এছাড়াও এখানে পাবেন স্থানীয় খাবার “বিগল বিচি”, “কচি বাঁশের তরকারী”, “কেবাং”।

পেদা টিং টিং একটা চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। অর্থাৎ মারাত্মকভাবে খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা থাকে, সেটাকেই বলা হয় পেদা টিং টিং। এদিকে পেদা টিং টিংয়ের ঠিক অপর পাশে কাপ্তাই হৃদের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত উপজাতী রেষ্টুরেন্ট চাং পাং। যার অর্থ হলো চাইলেই পাই। এখানে পাহাড়ি সমাজের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহি খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আরামে কিছুটা সময় কাটাবার সেগুন বাগানের অভ্যন্তরে নীরবে বসে থাকার বেশ কয়েকটি ছাউনী।

বালুখালী
রাঙামাটি শহরের কাছেই বালুখালী কৃষি খামার। খামারের বিশাল এলাকা জুড়ে যে উদ্যান রয়েছে, তা এককথায় চমৎকার। এখানে প্রায় সময় দল বেঁধে লোকজন পিকনিক করতে আসে। খামারটিতে ফল-ফুলসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে। রাঙামাটি শহর থেকে স্পিডবোট ভাড়া করে এখানে আসা যায়। ভাড়া দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা। তবে দেশীয় ইঞ্জিন বোটে ভাড়া ৮’শ থেকে হাজার টাকা।

রাজ বনবিহার
রাঙামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজ বনবিহার। এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রধান তীর্থ স্থান এটি। এখানে আছে একটি প্রার্থনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তের (বৌদ্ধ ভিক্ষু) আবাসস্থল ও বনভান্তের ভোজনালয়। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে চলে প্রার্থনা। রাজ বনবিহারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। রাজবনবিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি।

ফুরোমোন
শহরের অল্প দূরে অবস্থিত ফুরামোন পাহাড়। এ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে রাঙামাটি শহরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এর উচ্চতা এক হাজার ৫১৮ ফুট। ফুরামোন পাহাড় যেতে হলে শহরের মানিকছড়ির সাপছড়ি হয়ে যেতে হবে। এখানে রাজবন বিহারের ফুরামোনা শাখা নামে বৌদ্ধদের একটি মন্দির রয়েছে। ফুরামোন যেতে হলে প্রথমে অটোরিকশা ভাড়া করে সাপছড়ি পর্যন্ত গিয়ে এরপর হেঁটে যেতে হবে। এ জন্য অবশ্যই পাহাড়ে ওঠার অভ্যাস থাকতে হবে। আরেকটু আরামে যেতে চাইলে ফুরামোনের পাদদেশে নির্মিত রাস্তা দিয়েও যেতে পারেন। তবে ফুরামোন পাহাড়ে যাওয়ার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাঘেœ নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, এলাকাটি খুবই নির্জন।

মোনঘর ও সুখী নীলগঞ্জ
রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে রাঙাপানি এলাকায় চার একর পাহাড়ের উপর অবস্থিত মোনঘর শিশু সদন। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় লোকজনের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিনিকেতন হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাথ ও দুস্থ শিশুদের আশ্রয় দিয়ে পড়ালেখার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোনঘর শব্দের অর্থ পাহাড়ে জুম চাষের জন্য চাষিদের থাকার অস্থায়ী আশ্রয়স্থল। যতদিন পর্যন্ত না চাষিরা জুমের ধানের বীজ থেকে অন্যান্য ফলন মোনঘরে তুলতে পারবেন ততদিন পর্যন্ত সেখানে থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন। দুস্থ ও অনাথ শিশুদের আশ্রয় দিয়ে তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মোনঘর শিশু সদনের কাজ। গাছপালা ঘেরা ভবন, বৌদ্ধ মন্দিরসহ দেখার অনেক কিছু রয়েছে এখানে। তবে মোনঘর শিশু সদনের ভেতরে যেতে চাইলে আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। শহর থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে এখানে আসা যাবে। হাতে সময় থাকলে এখান থেকে স্বল্প দূরত্বের হ্যাচারি ঘাট এলাকায় সবুজ বৃক্ষরাশি ঘেরা পুলিশ লাইনের সুখী নীলগঞ্জ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত বোটানিক্যাল গার্ডেন ও মিনি চিড়িয়াখানাও ঘুরে আসতে পারেন।

ডিসি বাংলো
রাঙামাটি শহরের জিরো পয়েন্টে কর্ণফুলী হ্রদের গা ঘেঁষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের বাংলো। সংযোগ সড়ক ছাড়া বাংলোর তিনদিকেই ঘিরে রেখেছে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি। বাংলোর পাশে ছোট টিলার উপরে রয়েছে একটি বাতিঘর ও কোচপানা নামক ছাউনী, যা সেতু দ্বারা বাংলোর সাথে সংযুক্ত। সেতু এবং ছাউনী থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীগণ অকাতরে হ্রদের রূপ-সুধা অবগাহণ করতে পারে। রাঙামাটি শহরের যে কোন স্থান হতে অটোরিক্সাতেও এখানে আসা যায়। তবে বাংলো এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি আবশ্যক।

উপজাতীয় যাদুঘর
রাঙামাটির প্রবেশ দ্বারেই দৃষ্টি কাড়ে উপজাতীয় যাদুঘর। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু এটির। ২০০৩ সালে নতুন ভবন নির্মিত হলে তা আরো সমৃদ্ধ হয়। এ যাদুঘরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য তৈজষপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, প্রাচীন মুদ্রা, প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ, পুঁতিপত্র, তৈলচিত্র ও উপজাতীয় জীবনধারার বিভিন্ন আলোকচিত্র রয়েছে। যাদুঘরটি সকলের জন্য উম্মুক্ত হলেও এখানে ঢুকতে মাত্র পাচঁ টাকা টিকেট কেটে প্রতিজন ভেতরে ঢুকতে পারবেন।

শহর থেকে দূরে
জল বিদুৎ প্রকল্প ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান
১৯৬০ সালে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে কর্ণফুলী হ্রদের সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম এ হ্রদের আয়তন ২৯২ বর্গমাইল। এই জল বিদুৎ কেন্দ্রের ভেতরে যেতে হলে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি আবশ্যক, অথবা সেখানে কর্মরত নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতে ভেতরে প্রবেশ করার সময় সাথে ক্যামেরা নেওয়া যাবেনা, এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধন এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়া তের হাজার একর এলাকা নিয়ে কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান’। এখানেও সারি সারি পাহাড় আর প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়। বিচিত্র বন্যপ্রাণী ও পাখ-পাখালির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। বনের ভেতর সারি সারি সেগুন, জারুল, গামার আর কড়ই গাছের মাঝে পায়ে হেটে চলা পর্যটকদের অফুরন্তু আনন্দের খোরাক। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বন বিভাগের দু’টি বিশ্রামাগার। বিশ্রামাগারের চারপাশে নদী, পাহাড় আর সবুজের সহাবস্থান। রাঙামাটি সদর হতে এর দূরত্ব আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার। উদ্যানে যেতে হলে চট্টগ্রাম হতে সরাসরি কাপ্তাই যেতে হবে অথবা রাঙামাটি এসে শহরের আসামবস্তি থেকে অটোরিক্সা ভাড়া করেও যাওয়া যায়।

এছাড়া আসাম বস্তি-কাপ্তাই হ্রদ সড়কটি চালু হওয়ার পর এটিও বাড়িয়েছে রাঙামাটির সৌন্দর্য। এ সড়ক দিয়ে যেতে চোখে পড়বে উপজাতি গ্রামসহ উঁচু-নিচু পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের অপরূপ দৃশ্য। আবার সড়কের আসামবস্তি এলাকায় রয়েছে অপরূপ সেতু। বিকেলে ওই সেতুতে বসে কাপ্তাই হ্রদ ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকনের অনুভূতিটাই অন্যরকম। এ সড়ক দিয়ে কাপ্তাই উপজেলায়ও যাওয়া যায়। সিএনজি অটোরিকশাযোগে যেতে সময় লাগবে আধা ঘণ্টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা। ভাড়া পড়বে সাত থেকে আটশ’ টাকা। কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মন পাগল করে দেবে।

বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতিসৌধ
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলা নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে শহীদ হন। স্থানীয় এক পাহাড়ি তাকে ওই স্থানে কবর দেন। পরে রাঙামাটির বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ওই স্থানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। সেটি দেখতে হলে দেশীয় ইঞ্জিনচালিত বোট বা স্পিড বোট ভাড়া করে যেতে হবে।
এছাড়া রাঙামাটি শহরের বাইরেও বিভিন্ন উপজেলায়ও সম্ভাবনাময় অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগের অবস্থান দুর্গম এলাকায়। এর মধ্যে বাঘাইছড়ির পাবখালী অভয়ারণ্য, সাজেক ভ্যালি, বিলাইছড়ির রাইনক্ষ্যং হ্রদ বা বগা লেক, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের ঘাগড়ার হাজাছড়ি এলাকার প্রাকৃতিক ঝরনা, মগবানের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এলাকায় মনোরম পিকনিট স্পট অন্যতম।

বরকল উপজেলা
রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে বেশি পর্যটন স্পট রয়েছে বরকল উপজেলায়। এই উপজেলায় ছোট-বড় ৮টি ঝর্ণা রয়েছে। এছাড়া এখানে অবস্থিত রয়েছে ঐতিহ্যবাহি ফালিতাঙ্গ্যা চুগ। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে বরকলের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। সেখানে যেতে হলে শুভলং বাজার থেকে পূর্বদিকে কর্ণফুলী নদীর উজানের দিকে এগুতে হবে। শুভলং বাজারে পাশেই কয়েকটি নদী মিলিত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এসেছে জুরাছড়ি এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এসেছে মাইনী ও কাচলং নদীর মিলিত স্রোতধারা। কর্ণফুলী নদীর বুক চিরে বরকল যাওয়ার পথে নদীর দু’ধারে দেখা যাবে উঁচু-নিচু অসংখ্য পাহাড় ও উপজাতি গ্রাম। বরকল উপজেলা সদর ফালিত্যাঙ্গা চুগের পাদদেশে অবস্থিত। সেখানে রয়েছে বরকল উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বাজার ও বিজিবি জোন। আগে স্থানীয় লোকজন ফালিত্যাঙ্গা চুগকে অভিহিত করত পাকিস্তান টিলা নামে। ১৯৭১ সালে পাক সেনারা এ পাহাড়ে বড় বড় বাঙ্কার খুঁড়ে আশ্রয় নিয়েছিল বলেই এর নাম হয় পাকিস্তান টিলা। ফালিতাঙ্গ্যা চুগ রাঙামাটির সবচেয়ে সুউচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা এক হাজার ৬৬৮ ফুট। এ পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। একই সঙ্গে দেখা যায় ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আইজল শহর। ১৯২৩ সালে গড়ে ওঠে বরকল উপজেলা। জনশ্র“তি আছে, কর্ণফুলী নদীর এ স্থানে একটি বিশাল ঝরনা ছিল। এ ঝরনার পানি পড়ার শব্দ অনেক দূর থেকে শোনা যেত। দূর থেকে পানি পড়ার এ শব্দ শুনে মনে হতো, কোনো বড় যন্ত্র বা কলের শব্দ হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় আদিবাসীরা এর নাম দেয় বরকল। তবে ১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের কারণে বরকলের সর্ববৃহৎ এ ঝরনাটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। বরকল যেতে হলে অবশ্যই রাতে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিনচালিত বোট ভাড়া করে এখানে আসতে হবে।

অপরদিকে বরকল সদরের পূর্বদিকে রয়েছে সীমান্তবর্তী থেগামুখ। বর্তমান সরকার এখানে স্থলবন্দর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। থেগামুখ যেতে হলে কর্ণফুলী নদীর উজান দিয়ে যেতে হয়। যাওয়ার সময় নদীর দু’তীরে প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং পাহাড় থেকে জলীয় বাষ্প উড়ে যাওয়ার দৃশ্য যে কাউকেই বিমোহিত করবে। কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি ভারতের লুসাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে। এ নদীর দু’পাশে রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মনকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। নদীর দু’ধারে রয়েছে সহজ-সরল জীবন যাপন করা পাহাড়ি অধিবাসিরা। কর্ণফুলী নদীর একপাশে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জেলে, অন্যপাশে ভারতীয় পতাকাবাহী জেলেদের দেখা যাবে মাছ ধরতে। যেন একই সুতোয় বাঁধা জীবন ঘুরপাক খাচ্ছে নদীর নীল জলে।

বোট পাবেন যেখানে
ইঞ্জিনচালিত বোট কিংবা স্পিডবোট ভাড়া পাওয়া যায় রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি বাজারের বোট ঘাট, রিজার্ভ বাজার, বনরূপার সমতা ঘাট ও রাজবাড়ি ঘাট এলাকায়। নতুন লোক দেখলে বোট চালকরা ভাড়া একটু বেশি দাবি করে। তাই দর-দাম করে বোট ভাড়া নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া নিলে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। দু’তিন ঘণ্টার জন্য এ ভাড়া হতে পারে পাঁচ-ছয়শ’ টাকা।

যেভাবে রাঙামাটিতে আসবেন
ঢাকা থেকে ইচ্ছে করলে সরাসরি রাঙামাটি আসতে পারেন। অথবা চট্টগ্রাম হয়েও আসা যায়। চট্টগ্রাম থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙামাটি প্রায় সাড়ে ৩শ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর থেকে এস আলম ও ইউনিকসহ বিভিন্ন পরিবহনে যাওয়া যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন থেকে এক ঘণ্টা পরপর পাহাড়িকা বাস এবং প্রতি আধা ঘণ্টা পর বিরতিহীন বাস ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। আরও একটু আয়েশে যেতে চাইলে উঠতে পারেন এস আলম কিংবা ইউনিক চেয়ার কোচে। তবে এগুলো সব সময় পাওয়া না গেলেও স্টেশন রোড থেকে এক ঘণ্টা পর পর পাওয়া যায় আরামদায়ক বিআরটিসি বাস। নগর থেকে রাঙামাটি যেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।

যেখানে থাকতে পারেন
একটু নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে। এখানে সিঙ্গেল রুমের পাশাপাশি ডবল রুমও রয়েছে। প্রতিটি রুমের জন্য ভাড়া গুনতে হবে এসি ২ হাজার ২শ আর নন এসি ১৪শ’ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি হোটেলে রাতযাপন করা যায়। এজন্য ভাড়া নিতে পারেন পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত হোটেল সুফিয়া, দোয়েল চত্ত্বরে অবস্থিত নতুন আঙ্গিকে তৈরিকৃত হোটেল প্রিন্স, রিজার্ভ বাজারের গ্রিন ক্যাসেল, কলেজ গেটের মোটেল জর্জ কিংবা বনরূপার হোটেল নিডস হিল, পুরাতন বাসষ্টেশনে অবস্থিত হোটেল হিল প্যালেস। এসব হোটেলে সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৫শ’ থেকে ১২শ টাকা-এসি, নন এসি, ডবল রুম ৯শ’ থেকে ২০০০টাকা। এর বাইরে মাঝারি মানের হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল দিগনিটি, সমতা বোর্ডিং, হোটেল আনিকা, হোটেল আল-মোবা, হোটেল সৈকতসহ আরো বেশকিছু আবাসিক হোটেল।

তবে নতুন দম্পতিদের জন্য স্মরণীয় একটি দিন হবে যদি তারা থাকতে পারেন পর্যটন কমপ্লেক্সের হানিমুন কটেজে। অনন্য শৈলীতে নির্মিত কটেজের একটি রুমের ভাড়া পড়বে এসি ৬ হাজার আর ননএসি ৩ হাজার ২শ টাকা। বিভিন্ন ছুটিরদিনে পর্যটক বেশি থাকার কারণে আগেভাগেই রুম বুকিং দিলে ভালো। তা না হলে রুম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।

যোগাযোগ
অগ্রিম বুকিং দিতে যোগাযোগ করতে পারেন পর্যটন মোটেল: ০৩৫১-৬৩১২৬, সুফিয়া হোটেল: ০৩৫১-৬২১৪৫, গ্রিন ক্যাসেল: ০৩৫১-৬১২০০, মোটেল জজ: ০৩৫১-৬৩৩৪৮, হোটেল প্রিন্স:০১৯১৩০৭০৮৬৮, ০১১৯১৫৫৬৮৮৮ ও ০৩৫১৬১৬০২।

মতামত